প্রিন্ট এর তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬
ভাঙ্গা কুঁড়েঘরটাও পরের জায়গায়, নেই মাথা গোজার ঠাঁই
মোঃ ওলিউল্লাহ , নিজস্ব প্রতিনিধি ইনসাফ টাইমস ২৪ ||
এক মেয়েকে নিয়ে চড়ম অসহায় হয়ে পড়েছেন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার অসহায় ভূমিহীন পরিজান বেগম। নেই মাথা গোজার ঠাঁই। পরিজান তার মেয়েকে নিয়ে অন্য মানুষের জমিতে খুপরি ঘর বানিয়ে কোনো ভাবে জীবন যাপন করে আসছেন। বহুদিন আগেই স্বামী শাহজাহান আলী ছেড়ে দিয়ে চলে গেছেন অন্যত্র।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার নওপাড়া গ্রামের পায়রাপাড়া এলাকায় তার যুবতী মেয়ে তহমিনাকে নিয়ে ইনাত আলীর জমিতে একটি খুপরি ঘর বানিয়ে সেখানেই বসবাস করে আসছিলেন বহুদিন যাবত। জমির মালিক ইনাত আলী বলে দিয়েছেন সেখান থেকে সরে যেতে। তাই যুবতী মেয়ে তাহমিনাকে নিয়ে কোথায় যাবেন ভেবে পাচ্ছেন না পরিজন। পরিযানের সহায় সম্বল বলতে রয়েছে দুটি ছাগল। মানুষের বাড়িতে ও কৃষি কাজ করে জীবন নির্বাহ করেন মা ও মেয়ে। এখন মাথা গোজার থাই খুঁজতে সকাল হতে রাত পর্যন্ত ধরনা দিচ্ছেন বিভিন্ন নেতা নেত্রীর কাছে। তবুও হচ্ছে না কোন কূল কিনারা। সহায় সম্বলহীন পরিযান বেগম পান না কোন সরকারি অনুদান, নেই কোন ভাতার কার্ড। একদিকে সংসারে অভাব অনটন অন্যদিকে যুবতী মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার চিন্তা সব মিলে যেন বৃদ্ধ বয়সে কুড়ে খাচ্ছে পরিজান বেগমকে।এসব বিষয়ে বৃদ্ধ পরিজান বেগম বলেন, এতদিন এখানে ছিলাম ভালোই ছিলাম। এখন এই জমিতে ওরা কি যেন বানাবে তাই এখানে আর থাকা যাবে না। মানুষের বারান্দা ও বিভিন্ন জায়গায় এখন আমার দিনরাত কাটছে। আপনারা যদি পারেন আমার একটা থাকার জায়গা বানিয়ে দেন। আমার যুবতী মেয়েটিকে নিয়ে আমি এখন কোথায় যাব ভেবে পাচ্ছি না। প্রতিবেশী দুলালী বেগম ও আজগর আলী বলেন, ওরা খুবই অসহায় ওদের বাড়ি ঘর নাই। জায়গা জমি নাই। ওদের যদি থাকার একটা ব্যবস্থা করা যেত তাহলে খুবই ভালো হতো। মহিলাটি এই বৃদ্ধ বয়সে এসেও তার মেয়েকে নিয়ে পরের জমিতে কৃষি কাজ করেন কখনো কখনো মানুষের বাসায় কাজ করে খায়। মাথা গোজার একটা থাই হলে ওদের জন্য খুবই ভালো হতো। এবিষয়ে জিউপাড়া ইউনিয়নের প্রশাসক ও পুঠিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। যদি কোনো ভাতা না পেয়ে থাকে, তাহলে সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বলেন। আমি চেষ্টা করব।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত