প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬
পৌর চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি: মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা
স্টাফ রিপোর্টার। ||
ঠাকুরগাঁওয়ের পৌর চেয়ারম্যান হিসেবে রাজনৈতিক পথচলা শুরু করে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। চার দশকের বেশি সময়ের রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন, কারাবরণ, নির্যাতনসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দলের নেতৃত্বে সক্রিয় থেকেছেন।উত্তরাঞ্চলের ঠাকুরগাঁওয়ের মির্জা পরিবারের সন্তান মির্জা ফখরুল কর্মজীবনের শুরুতে শিক্ষকতা করেন। পরে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। আশির দশকে তিনি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং একই সময়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৯০ সালে বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর স্থানীয় রাজনীতি থেকে ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতিতে উঠে আসেন।পাঁচবারের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা ফখরুল বিএনপির বিভিন্ন সংকটময় সময়েও দলের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১১ সালে বিএনপির মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। পরে ২০১৬ সালে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফখরুলকে একাধিকবার কারাবরণ ও নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। জানা যায়, তিনি নিজেই ১১ বার কারাবরণের কথা জানিয়েছেন। তবে এসব প্রতিকূলতা তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে থামাতে পারেনি। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দি থাকা এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের বাইরে অবস্থান করার সময়ও দলকে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলনেও সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মির্জা ফখরুল। দলীয় সংকট ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও নেতাকর্মীদের সংগঠিত রাখার চেষ্টা করেছেন তিনি।২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়াতেও মির্জা ফখরুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এরপর ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রীর দায়িত্ব পান।দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে এবার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পথে মির্জা ফখরুল। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিরোধী জোটের প্রার্থী ও এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ।সাড়ে তিন দশক পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শুরুতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভোট দেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল, বিরোধীদলীয় নেতাসহ অন্যান্য সংসদ সদস্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হলে ভোট গণনা শুরু হয়। মোট ৩৪৯ ভোটারের মধ্যে ৩৪৩টি বৈধ ভোট পড়ে। এর মধ্যে মির্জা ফখরুল পান ২৫৫ ভোট এবং অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। ছয়টি ব্যালট অব্যবহৃত ছিল। বিভিন্ন ত্রুটির কারণে চারটি ব্যালট নিয়ম অনুযায়ী প্রতিস্থাপন করা হয়।সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারেন না। সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুলের বিজয় অনেকটাই নিশ্চিত ছিল। ভোটের ফলেও তার প্রতিফলন দেখা যায়।ভোটের ফল প্রকাশের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লাল গোলাপ দিয়ে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানান। পরে বিরোধীদলীয় নেতাসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যও তাকে শুভেচ্ছা জানান।শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের দক্ষতা ও প্রজ্ঞা কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে তিনি কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে দেশের মানুষ।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত