প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬
শত বছরের হাতিয়া-চট্টগ্রাম নৌরুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্টিমার বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা
স্টাফ রিপোর্টার। ||
যাত্রী সংকট ও ধারাবাহিক লোকসানের কারণ দেখিয়ে শত বছরের পুরোনো হাতিয়া-চট্টগ্রাম নৌরুটে সব ধরনের স্টিমার চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।হঠাৎ গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে স্টিমার চলাচল বন্ধ হওয়ায় দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার প্রায় সাত লাখ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান ও নিরাপদ মাধ্যম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় জনজীবনে।স্থানীয় সূত্র জানায়, হাতিয়ার অর্থনীতি, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা অনেকটাই এই নৌরুটের ওপর নির্ভরশীল। স্টিমার বন্ধ থাকায় জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে রোগীদের চট্টগ্রাম কিংবা মূল ভূখণ্ডে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। উচ্চশিক্ষার জন্য যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষও সমস্যায় পড়েছেন। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আনা-নেওয়াতেও ভোগান্তি বেড়েছে। ফলে দ্বীপটির সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।যোগাযোগের বিকল্প ও নিরাপদ ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত এই নৌপথে স্টিমার সার্ভিস পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন।হাতিয়ার সুশীল সমাজের প্রতিনিধি মো. নূরুল আলম জসীম বলেন, এই রুটের স্টিমার সার্ভিসের সঙ্গে দ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের স্মৃতি ও আবেগ জড়িয়ে আছে। এই সার্ভিসের মাধ্যমেই দেশের মানুষ দ্বীপ উপজেলা হাতিয়াকে জানতে ও চিনতে পেরেছে। তার মতে, সার্ভিসটি বন্ধ হয়ে যাওয়া হাতিয়াবাসীর স্মৃতির একটি অংশ মুছে যাওয়ার মতো।বিআইডব্লিউটিসি ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৯০৬ সালে ব্রিটিশ সরকার এ অঞ্চলে স্টিমার সার্ভিস চালু করে। সে সময় চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ-হাতিয়া রুটে স্টিমার চলাচল করত। ১৯৫৬ সালের ২ জুন এ পথে চলাচলকারী কয়লাচালিত ‘বাদুরা’ জাহাজ সন্দ্বীপ চ্যানেল অতিক্রমের সময় ভয়াবহ ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। এতে পাঁচ শতাধিক যাত্রী নিহত হন বলে জানা যায়।এরপর ১৯৬৪ সালে তৎকালীন সরকার চট্টগ্রাম-হাতিয়া নৌরুটে এমভি তাজুল ইসলাম, এমভি আলাউদ্দিন, এমভি মনিরুল হক এবং এমভি আব্দুল মতিন নামে চারটি জাহাজ চালু করে। তবে প্রায় এক দশকের মধ্যেই, ১৯৭৪ সালের দিকে এমভি তাজুল ইসলাম এবং পরবর্তী সময়ে এমভি আলাউদ্দিনকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বিক্রি করে দেয় নৌপরিবহন করপোরেশন।পরবর্তীতে ২০০৯ সালে মেরামতের উদ্দেশ্যে এমভি আব্দুল মতিন ও এমভি মনিরুল হককে ডকইয়ার্ডে নেওয়া হলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।এরপর চট্টগ্রাম-হাতিয়া রুটে আধুনিক ও দ্রুতগতির এমভি বার আউলিয়া, এমভি তাজউদ্দীন এবং এমভি টেকনাফ চালুর সিদ্ধান্ত নেয় বিআইডব্লিউটিসি। দীর্ঘদিন এসব জাহাজ চলাচল করলেও গত ৬ জুলাই থেকে এই রুটে সব ধরনের যাত্রীবাহী জাহাজ বা স্টিমার চলাচল বন্ধ রয়েছে।এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির যাত্রী সার্ভিস ইউনিটের উপমহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) খন্দকার মুহাম্মদ তানভীর হোসেন বলেন, হাতিয়া থেকে জেলা সদরে যাতায়াতের জন্য বিকল্প রুটে সি-ট্রাক ও ফেরি চলাচল করছে। এ কারণে হাতিয়া-চট্টগ্রাম রুটের সার্ভিসটি ধারাবাহিকভাবে লোকসানে পড়ছিল। সেই কারণে আপাতত স্টিমার চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: ইত্তেফাক
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত