প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬
গাজ্জায় পুলিশ হত্যার ঘটনায় ইসরাইলকে জাতিসংঘের সতর্কবার্তা
ডেক্স রিপোর্ট। ||
গাজ্জায় ইসরাইলি বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলায় ফিলিস্তিনিদের হত্যার ঘটনাগুলো যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কার্যালয়। একই সঙ্গে গাজ্জার পুলিশ সদস্য ও পুলিশ স্থাপনায় ইসরাইলি হামলার ধারাবাহিকতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।শুক্রবার (২১ আগস্ট) ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়।বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজ্জায় ইসরাইলি হামলার মাত্রা কখনো কখনো কমে এলেও উপত্যকার বেসামরিক বাসিন্দারা এখনো নিয়মিত, অনিশ্চিত ও প্রাণঘাতী হামলার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।জাতিসংঘের কার্যালয় জানিয়েছে, ১৩ থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র সাত দিনে গাজ্জায় অন্তত ২২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ড ‘যুদ্ধাপরাধ ও অন্যান্য নৃশংস অপরাধ’ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।গাজ্জার পুলিশ সদস্য ও পুলিশ স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলার বিষয়টিকেও ‘উদ্বেগজনক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়।বিবৃতিতে বুধবার গাজ্জা সিটির পৌর পুলিশের সদর দপ্তরে ইসরাইলি হামলার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়। ওই হামলায় আট পুলিশ কর্মকর্তা এবং ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী নিহত হয়।জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গাজ্জাজুড়ে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইসরাইলের ১৮টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব হামলায় ৭৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয় শিশু ও চার নারী রয়েছেন।আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী পুলিশ সদস্যরা বেসামরিক ব্যক্তি হিসেবে সুরক্ষা পাওয়ার কথা। তবে তারা সরাসরি ও সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশ নিলে এই সুরক্ষা প্রযোজ্য নয় বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের কার্যালয়।ফিলিস্তিনে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের প্রধান আজিত সুনঘাই বলেন, ধ্বংসস্তূপে পরিণত গাজ্জায় ইসরাইলের চলমান হামলাগুলোতে কোনো ‘সামরিক প্রয়োজনীয়তা’ খুঁজে পাওয়া কঠিন। এসব হামলায় বেসামরিক মানুষ, শিশু এবং পুলিশ সদস্যরা নিহত ও আহত হচ্ছেন।তিনি আরও বলেন, জীবনধারণের অধিকার প্রত্যেক মানুষের মৌলিক অধিকার। কিন্তু গাজ্জার পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে মানবাধিকারের প্রতি আর কোনো সম্মান অবশিষ্ট নেই। সেখানে প্রতিদিনই প্রাণহানি, আহত হওয়া এবং ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: ইনসাফ ২৪
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত