প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬
প্রতিমন্ত্রীর ফোনের পর থেমে যায় কমিশনারকে ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলার অভিযোগে জিয়ানের গ্রেপ্তার অভিযান
স্টাফ রিপোর্টার। ||
চট্টগ্রামের সাবেক পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজকে ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলার অভিযোগে আলোচনায় থাকা জোবাইরুল হক জিয়ানের গ্রামের বাড়িতে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালিয়েছিল চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি দল। তবে অভিযানের সময় এক প্রতিমন্ত্রীর ফোন আসার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ধীরগতিতে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে পুলিশের একটি সূত্র দাবি করেছে। এরপর অভিযান আর এগোয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।‘সানজিদা ইসলাম সায়মা’ পরিচয়ে সাবেক পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজকে ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলার অভিযোগে জিয়ানের নাম সামনে আসে। অনুসন্ধানে তার সঙ্গে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার যোগাযোগ, পদায়ন নিয়ে আলোচনা এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। সম্প্রতি ‘আমার দেশ’-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ‘দুই ওসির হানি ট্র্যাপে পুলিশ কমিশনার’ শিরোনামে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের ছৈয়দাবাদ এলাকায় জিয়ানের গ্রামের বাড়ি। সম্প্রতি তাকে আটক করতে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে জেলা পুলিশ। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম জানান, দুই দিন আগে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে জিয়ানকে গ্রেপ্তারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে বর্তমানে জোর চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।তবে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, অভিযান চলার সময় এক প্রতিমন্ত্রীর ফোন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অভিযান ধীর করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই ফোনটি কোন প্রতিমন্ত্রীর কাছ থেকে এসেছিল এবং কী কারণে অভিযান ধীর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি। তবে অভিযানে থাকা সূত্রগুলোর ভাষ্য, ফোন পাওয়ার পর জিয়ানকে গ্রেপ্তারের কার্যক্রমে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে।অনুসন্ধানে জিয়ানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগের পাশাপাশি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের তথ্যও পাওয়া গেছে। তার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট বিশ্লেষণে পুলিশ কর্মকর্তাদের পদায়ন ও মামলা নিয়ে আলোচনার প্রমাণ মিলেছে। এর মধ্যে পাঁচলাইশ থানার ওসি জাহেদুল ইসলাম এবং চকবাজার থানার সাবেক ওসি বাবুল আজাদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।অন্যদিকে, ‘সানজিদা’ পরিচয় ব্যবহার করে জিয়ান সাবেক কমিশনার হাসিব আজিজের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। হাসিব আজিজের ভাষ্য, তিনি ওই পরিচয়ের ব্যক্তিকে নারী মনে করেই যোগাযোগ করেছিলেন। পরে পরিচয়টি ভুয়া জানতে পেরে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।পুলিশের পক্ষ থেকে জিয়ানকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান থাকার কথা জানানো হলেও, তার গ্রামের বাড়িতে পরিচালিত অভিযানের সময় আসা ফোন এবং এরপর কার্যক্রম থেমে যাওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
সূত্র: আমার দেশ
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত