প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬
টঙ্গীর ফুটপাত দখল করে মাসে ১৫ লাখ টাকা চাঁদার অভিযোগ, নেপথ্যে ‘ক্যাসেট শামীম’
স্টাফ রিপোর্টার। ||
গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ফুটপাত ও সড়ক দখল করে দোকান বসিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে শামীম খান ওরফে ‘ক্যাসেট শামীম’ এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।স্থানীয়দের অভিযোগ, টঙ্গী পূর্ব থানা-পুলিশকে বড় অঙ্কের মাসোহারা দিয়ে ম্যানেজ করে ফুটপাতে ভাসমান দোকান বসিয়ে চাঁদা আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।একসময় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন ক্যাসেট শামীম। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যা মামলাও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে একই ধরনের চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।সরেজমিনে দেখা যায়, টঙ্গী-আব্দুল্লাহপুর সংযোগ বেইলি ব্রিজের পাশে মহাসড়কের ফুটপাত দখল করে প্রায় ২৪০ থেকে ২৫০টি কাপড়ের দোকান, নার্সারি, কাঁচাবাজার ও জুতার দোকান গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি মাছ, শুঁটকি এবং অন্যান্য পণ্যের ভাসমান দোকানও রয়েছে।ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দোকানের ধরন অনুযায়ী প্রতিদিন ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। শুধু বেইলি ব্রিজসংলগ্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার টাকা আদায় হয়। সেই হিসাবে মাসে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৫ লাখ টাকা।ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় টঙ্গীবাজারের মতো ব্যস্ত এলাকার প্রবেশপথে নিয়মিত যানজট তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে রোববার সাপ্তাহিক হাটের দিন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক এবং তুরাগ নদের ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজ দিয়ে পথচারী ও পণ্যবাহী যান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। স্থানীয় এটলাস হোন্ডা, বাটা সু কোম্পানি, টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস) ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।অভিযোগের বিষয়ে শামীম খান ওরফে ক্যাসেট শামীম বলেন, বিএনপি নেতা ইসমাইল সিকদার বসু, মামুন পাঠান ও লিটু মিয়াসহ কয়েকজন কোটি টাকা ব্যয়ে টঙ্গীবাজার ইজারা নিয়েছেন। সিটি করপোরেশন সীমানা নির্ধারণ করে না দেওয়ায় ইজারার টাকা আদায়ের জন্য তুরাগ তীরের পাশে কিছু অস্থায়ী দোকান বসানো হয়েছে। এসব দোকান থেকে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ টাকা করে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।টঙ্গীবাজারের ইজারাদার ও বৃহত্তর টঙ্গী থানা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইসমাইল সিকদার বসু বলেন, তারা প্রায় ৫ কোটি টাকা দিয়ে সিটি করপোরেশন থেকে টঙ্গীবাজার ইজারা নিয়েছেন। সড়ক ও জনপথ বিভাগ সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করলে দোকানগুলো সরিয়ে দেওয়া হবে।তবে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের টঙ্গী জোনের আঞ্চলিক কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ইজারার আওতায় মহাসড়কের ফুটপাত নেই। ফুটপাত দখল করে জনসাধারণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সড়ক ও জনপথের টঙ্গী উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন খান জানান, অবৈধ দোকান সরিয়ে নিতে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।পুলিশকে মাসোহারা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন টঙ্গী পূর্ব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। তবে উচ্ছেদের কয়েকদিন পর আবারও সেখানে দোকান বসানো হয়।
সূত্র: আমার দেশ
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত