প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬
কুবিতে সংঘর্ষ: দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কার, ছাত্রদল কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার। ||
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কাজী নজরুল ইসলাম হলে দেয়ালে ‘JCD’ লেখাকে কেন্দ্র করে প্রভোস্টের উপস্থিতিতে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে সংঘর্ষে জড়িত ছাত্রদলের কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।শুক্রবার রাত ১২টার দিকে কাজী নজরুল ইসলাম হলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য, হল প্রশাসন ও কর্তব্যরত সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।সাময়িক বহিষ্কৃত দুই শিক্ষার্থী হলেন অর্থনীতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ইলিয়াস ইসলাম শুভ ও হুমায়ূন কবীর। অন্যদিকে সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা ছাত্রদল কর্মীরা হলেন ইংরেজি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মারুফ হোসাইন ও শনব দেবনাথ এবং মার্কেটিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সাদেক সাকের।প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আগের একটি ঘটনার সমাধানের চেষ্টা করছিল হল প্রশাসন। একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকসহ অন্যদের চলে যেতে বলা হয়। এ সময় বের হওয়ার পথে ইলিয়াস ইসলাম শুভ ও হুমায়ূন কবীরের সঙ্গে ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মীর ধস্তাধস্তি ও মারামারি শুরু হয়।ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, শনব দেবনাথ মুখে সিগারেট নিয়ে ইলিয়াস শুভকে আঘাত করছেন। একই সময় সাদেক সাকের শুভকে গলা জড়িয়ে ধরে রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি মারুফ হোসাইনকেও শুভকে ঘুষি মারতে দেখা যায়।পরে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা মারুফকে সরিয়ে নিলে তিনি হুমায়ূন কবীরের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। কয়েকজন তাদের আলাদা করে দেন। পরবর্তী ভিডিও ফুটেজে মারুফের মুখে রক্ত দেখা যায়।ঘটনার পর ইলিয়াস ইসলাম শুভ ও হুমায়ূন কবীরকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলেও ছাত্রদল কর্মী মারুফ হোসাইন, শনব দেবনাথ ও সাদেক সাকেরের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।আহত মারুফ হোসাইন বলেন, ‘আমি মেডিকেলে আছি। আমার মাথায় আঘাত লেগেছে এবং দুটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। যেহেতু মেডিকেলে আছি, পরে কথা বলব।’অভিযুক্ত শনব দেবনাথের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।অভিযোগের বিষয়ে ইলিয়াস ইসলাম শুভ বলেন, ‘প্রথমে মারুফ এসে হুমায়ূনকে ধাক্কা দেয়। এরপর হুমায়ূন ও মারুফের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে আমি থামাতে যাই। তখন আমাকে মারধর করা হয়। সাদেক আমাকে ধরে রেখেছিল। এরপর শনব ও মারুফ আমার মাথায় আঘাত করে। আমার মাথা ফুলে গেছে।’হুমায়ূন কবীর বলেন, ‘প্রভোস্টের রুমেই শনব ও মারুফ অনেক অ্যাগ্রেসিভ ছিল। সেখানে মারুফ আমাকে একবার ধাক্কা দেয়। বাইরে এসে সে আমাকে আবার টাচ করে। এরপর আমিও তাকে ধাক্কা দিই। এর মধ্যে হাতাহাতি হয়। মারামারির মধ্যে কীভাবে তার মাথা ফেটেছে, আমি জানি না। আমাকে তিন-চারজন ধরে রেখেছিল। সে আমার কাছ থেকে অনেক দূরে চলে গিয়েছিল।’এদিকে হল থেকে বহিষ্কারের পর ইলিয়াস ইসলাম শুভ ও হুমায়ূন কবীরের বিছানাপত্রসহ অন্যান্য সরঞ্জাম বাইরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শনব দেবনাথ ও সাদেক সাকেরের বিরুদ্ধে।এ বিষয়ে সাদেক সাকের বলেন, ‘আমাদের একটা ছোট ভাইকে মেরেছে, ওর মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। যেহেতু আমরা সেখানে ছিলাম এবং আমাদের এলাকার ছোট ভাইকে মেরেছে, এ জন্য আমরা এগুলো ফেলে দিয়েছি।’হল প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইলিয়াস ইসলাম শুভ ও হুমায়ূন কবীরকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। পরে তাদের অ্যাম্বুলেন্সে করে শহরের একটি মেসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।ঘটনাটি তদন্তে হলের হাউস টিউটর মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।এ বিষয়ে কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. হারুন বলেন, ‘প্রথম ঘটনার সুন্দর সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু সমাধান হয়নি। দ্বিতীয় ঘটনাটি যেহেতু আমাদের চোখের সামনেই ঘটেছে, তাই আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি।’তবে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের বিছানাপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম হলের বাইরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাধ্যক্ষ কোনো মন্তব্য না করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
সূত্র: আমার দেশ
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত