প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬
জ্বালানির উচ্চমূল্যে ছয় মাসে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় ৫ বিলিয়ন ডলার: অর্থমন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার। ||
শিল্পখাতের স্বার্থে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। রাজধানীর মতিঝিলে আয়োজিত এক সেমিনারে দুপুরে তারা এ দাবি জানান। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জ্বালানির উচ্চমূল্য পরিশোধ করতে গিয়ে ছয় মাসে সরকারকে অতিরিক্ত ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি প্রণোদনার অর্থ রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত দ্বিবার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সেমিনারে ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করেন ব্যবসায়ী নেতারা।ব্যবসায়ীরা বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার সঙ্গে দেশের জ্বালানি সংকটও ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। উচ্চ সুদের হার এবং ব্যাংক খাতের অর্থের ওপর সরকারের নির্ভরশীলতাও সংকট বাড়াচ্ছে বলে জানান তারা। উদ্যোক্তারা বলেন, দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। একই সঙ্গে অর্থসংকটের কারণে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগও বাড়ছে না। এ অবস্থায় আর্থিক খাতে সরকারের নীতি সহায়তা চেয়েছেন তারা।ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান বলেন, উৎপাদন ব্যয় ক্রমেই বাড়ছে। জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং এ নিয়ে অনিশ্চয়তা বর্তমানে বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে।ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ সীমিত করে বেসরকারি খাতে পর্যাপ্ত ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।সেমিনারে অর্থনীতিবিদরা বলেন, প্রকৃত রাজস্ব আদায়ের তুলনায় সরকারের কোষাগারে জমা পড়ছে অনেক কম অর্থ। এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা। রাজস্ব আদায়ে অটোমেশন ব্যবস্থার পাশাপাশি দেশের মুদ্রানীতি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন অর্থনীতিবিদরা।সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ৪ লাখ পয়েন্ট থেকে ভ্যাট দেওয়ার সুযোগ থাকলেও সরকার ২৪ হাজার পয়েন্ট থেকে তা পায়। এসব জায়গায় কী ধরনের নীতি গ্রহণ করা যায়, তা নিয়ে কাজ করার কথা জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে এআই, ডিজিটালাইজেশন এবং কিউআর কোড ব্যবহারের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, শুধু করদাতার সংখ্যা বাড়ানো নিরপেক্ষ লক্ষ্য হতে পারে না। করসংক্রান্ত হয়রানি এবং কর দেওয়ার বাস্তব পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে রাজস্ব আদায় বাড়ানো কঠিন হবে।জ্বালানি সংকট নিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার তিন মাসের জ্বালানি মজুত গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে কাস্টমস হয়রানি বন্ধের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রতিটি জ্বালানি খাতে তিন মাসের রিজার্ভ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার সময় কোনো কোনো জ্বালানির মজুত ১৫ দিন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৭ দিনেরও কম ছিল। অর্থাৎ, সরবরাহের প্রান্তিক পর্যায় থেকে দেশ পরিচালিত হচ্ছিল।মন্ত্রী আরও বলেন, জ্বালানির উচ্চমূল্য পরিশোধ করতে গিয়ে ছয় মাসে সরকারকে অতিরিক্ত ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত