প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬
শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তায় ত্রিস্তরীয় গ্রিড, একাধিক পরিকল্পনার কথা জানালেন অমিত শাহ
ডেক্স রিপোর্ট। ||
পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি করিডর, যা ‘চিকেন নেক’ নামে পরিচিত, ভারতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর একটি অঞ্চল। দেশটির মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান এই পথের নিরাপত্তা জোরদারে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।শুক্রবার (২১ আগস্ট) শিলিগুড়ি সফরে গিয়ে করিডরটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন তিনি। এ সময় তিনি জানান, শিলিগুড়ি করিডর সুরক্ষিত রাখতে সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রশাসনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং দ্রুত রেল যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।শিলিগুড়ির রানিডাঙ্গায় সশস্ত্র সীমা বলের (এসএসবি) উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ার হেডকোয়ার্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রায় ১৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে একাধিক প্রশাসনিক ও আবাসিক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেন অমিত শাহ। অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে অমিত শাহ বলেন, শিলিগুড়ি করিডরসহ পুরো দেশের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ ‘ত্রিকোণীয় নিরাপত্তা গ্রিড’ গড়ে তুলেছে। চোপড়া, কিষাণগঞ্জ ও ধুবড়িকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে পুরো করিডরে নজরদারি, সামরিক উপস্থিতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ‘তিস্তা প্রহার’-এর মতো নিয়মিত সামরিক মহড়ার মাধ্যমে অঞ্চলটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, শিলিগুড়ি করিডরকে আরও সুরক্ষিত করতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৫৬০ একর জমির প্রয়োজন ছিল। সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন জরুরি হলেও আগের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কাছে অনুরোধ করা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় জমি পাওয়া যায়নি।অমিত শাহের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। রাজ্য সরকার গঠনের মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ ও এসএসবির জমি-সংক্রান্ত জটিলতা দূর করে ১ হাজার ১২৯ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। এমনকি সকালের নাস্তার সময়ের আলোচনায় অবশিষ্ট ২৯ একর জমির অনুমোদনও দ্রুত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি এই অঞ্চলের যোগাযোগ, পর্যটন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ‘ভাইব্রেন্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম ২.০’-এর আওতায় ৬৮৩৯ কোটি টাকার প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভুটান সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোকে শুধু সড়ক যোগাযোগের মাধ্যমে নয়, মূল ভূখণ্ডের সঙ্গেও আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এ ছাড়া ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ প্রকল্পের আওতায় শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি স্টেশনকে বিশ্বমানের রেলস্টেশনে উন্নীত করার কাজ চলছে।অমিত শাহ আরও জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ঘোষিত দিল্লি-শিলিগুড়ি হাই-স্পিড রেল করিডর চালু হলে আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে দিল্লি থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিলিগুড়িতে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
সূত্র: ভয়েস বাংলা
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত