প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
‘আমাদের গ্রাম’: কাদা-মাটির পথে মানুষের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরলেন আল-আমিন
মাওলানা রাকিবুল ইসলাম , উপজেলা প্রতিনিধি গলাচিপা (পটুয়াখালী) ||
কাঁচা ও কর্দমাক্ত সড়ক, বর্ষায় চলাচলের দুর্ভোগ, অসুস্থ রোগীকে চিকিৎসকের কাছে নিতে না পারা এবং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি—গ্রামীণ জীবনের এমন বাস্তব চিত্র কবিতার ভাষায় তুলে ধরেছেন চর বিশ্বাসের কবি আল-আমিন। তাঁর লেখা কবিতাটির নাম ‘আমাদের গ্রাম’কবিতায় গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের পথের দুর্ভোগের কথা উঠে এসেছে। বর্ষা এলেই কাদা-মাটিতে পরিণত হয় চলাচলের পথ। ফলে পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই নিত্যপ্রয়োজনে এই পথ ব্যবহার করতে হয় স্থানীয়দের।কবিতার কয়েকটি পঙক্তিতে সেই বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে—“এই যে দেখেন কাঁদা মাটিএইটা মোদের গা,বর্ষা এলেই মহা বিপদযায় না ফেলা পা।”স্থানীয়দের ভোগান্তির আরেকটি বড় কারণ চিকিৎসাসেবা। কোনো বাড়িতে অসুস্থ রোগী থাকলে কাদা রাস্তার কারণে অনেক সময় দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কবিতায় সেই অসহায়ত্বের কথাও ফুটে উঠেছে।শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগও বাদ যায়নি কবিতায়। বৃষ্টি ও কাদার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। অনেক সময় ভেজা কাপড় ও ভেজা শরীর নিয়েই ক্লাসে বসতে হয়। এতে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।কবিতায় আরও উঠে এসেছে হাট-বাজারে যাতায়াতের সংকট। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা কিংবা কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও স্থানীয়দের সমস্যায় পড়তে হয়। ফলে অনেক পরিবারকে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই জীবনযাপন করতে হচ্ছে।তবে দুর্ভোগের মধ্যেও আশার কথা বলেছেন কবি। পটুয়াখালী-৩ আসনের জনপ্রতিনিধি নুরুল হক নুরের প্রতি প্রত্যাশা রেখে কবিতার শেষাংশে তিনি লিখেছেন—“আশায় মোরা বুক বেঁধেছিনুরুল হক নুর পেয়ে,তিনি-ই মোদের শেষ ভরসাআছি তার পানে চেয়ে।”কবিতাটি মূলত একটি গ্রামের মানুষের বাস্তব জীবন, দীর্ঘদিনের সড়ক সমস্যার পাশাপাশি উন্নয়নের প্রত্যাশার কথাই তুলে ধরে। কবির ভাষায় এটি শুধু একটি কবিতা নয়, বরং কাদামাটির পথ পেরিয়ে চলা মানুষের নিত্যদিনের কষ্টের প্রতিচ্ছবি।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে রাস্তাটি সংস্কার বা পাকাকরণের ব্যবস্থা করবে। তাহলে বর্ষা মৌসুমে মানুষের দুর্ভোগ কমবে এবং শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষকসহ সর্বস্তরের মানুষের চলাচল সহজ হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত