প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে নীরব জয়শঙ্কর, সম্পর্ক টেকসই করতে পারস্পরিক স্বার্থ জরুরি
ডেক্স রিপোর্ট। ||
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে তা অবশ্যই ‘পারস্পরিক স্বার্থের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ’ হতে হবে।শনিবার (২২ আগস্ট) ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে জয়শঙ্করকে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি নির্দিষ্ট বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য না করে বলেন, কোনো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কার্যকর রাখতে হলে সেটিকে পারস্পরিক স্বার্থের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। এই নীতি দুই দেশের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া প্রয়োজন।জয়শঙ্কর বলেন, তিনি আশা করেন না যে প্রতিবেশী দেশগুলো কেবল ভারতের স্বার্থ বিবেচনা করেই কাজ করবে। একইভাবে ভারতও তাদের স্বার্থকে স্বীকৃতি ও সম্মান জানাতে চায়। পাশাপাশি ভারতের স্বার্থকেও প্রতিবেশীরা সম্মান করবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার জায়গা ও অভিন্ন ভিত্তি তৈরি হলে সম্পর্ক ইতিবাচকভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। যেকোনো গভীর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অন্যতম মূল ভিত্তি পারস্পরিক স্বার্থ। শুধু এক পক্ষের স্বার্থের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরি করা সম্ভব নয়।শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়ে আসছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। ঢাকা তাঁর প্রত্যর্পণের দাবি জানালেও এখন পর্যন্ত নয়াদিল্লি তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।বর্তমান ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা ইস্যুতে জয়শঙ্করের সরাসরি মন্তব্য না করাকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ, সীমান্ত, বাণিজ্য ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। এসব বিষয়ে সমঝোতার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন জয়শঙ্কর।তিনি বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি পক্ষ শুধু নিজের স্বার্থকে গুরুত্ব দেবে—এমন প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। বরং দুই দেশের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করে উভয়ের কাছে গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছানোই সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার পথ।
সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত