প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
ঢাকার চীনা দূতাবাসে ই-মেইলে হামলার হুমকি, বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা তৎপরতা
স্টাফ রিপোর্টার। ||
ই-মেইলের মাধ্যমে ঢাকায় চীনা দূতাবাসে হামলার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তৎপর হয়েছে। ঘটনার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ডিএমপির সিটিটিসি ও পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা।জানা গেছে, গত বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে একটি উগ্রবাদী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে ই-মেইলের মাধ্যমে হামলার হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি জানার পর দূতাবাসের নিরাপত্তা জোরদার নিয়ে পুলিশের সঙ্গে চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তাদের অসন্তোষ তৈরি হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হট্টগোলও হয়েছে বলে একাধিক গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে।সিটিটিসি ও গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ঢাকার বারিধারায় চীনা দূতাবাসে ওই বৈঠক হয়। সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ দমনে সিটিটিসির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুন্সি শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি প্রতিনিধি দল চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয়।বৈঠকে পুলিশ সদর দপ্তরের এলআইসি শাখার এডিসি মাহমুদ এবং বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরত অন্তত ১০ জন চীনা নাগরিক উপস্থিত ছিলেন।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নামে ই-মেইল পাঠিয়ে চীনা দূতাবাসে হামলার হুমকি দেওয়া হয়। হুমকির বিষয়টি দূতাবাস কর্তৃপক্ষ পুলিশ সদর দপ্তর ও সিটিটিসিকে জানায়। এরপর নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করতে পুলিশ কর্মকর্তারা দূতাবাসে যান।চীনা দূতাবাসে বৈঠকের পর জাপানি দূতাবাসেও বৈঠক করেন সিটিটিসির কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিট থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ঢাকার বারিধারায় জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচির সঙ্গে বৈঠক করেন সিটিটিসির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুন্সি শাহাবুদ্দিন।গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সম্প্রতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় আতঙ্ক দেখা দেয়। পরে পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এসব বস্তু নিষ্ক্রিয় করে। এর মধ্যে রাজধানীর ডেমরা এলাকা থেকে দুটি বোমা সদৃশ বস্তুসহ একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ওই যুবক জেএমবির সদস্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরও জানতে পেরেছে, তিনি মামুন ওরফে বোমা মামুনের ঘনিষ্ঠ। তবে এখন পর্যন্ত বোমা মামুনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।গোয়েন্দা সূত্র আরও জানায়, কারাগারে তাদের দেখা হওয়ার পর জামিনে বেরিয়ে তারা আত্মগোপনে চলে যায়। এরপর জাতিসংঘের পক্ষ থেকে উগ্রবাদী সংগঠন আল-কায়েদার বাংলাদেশে নেটওয়ার্ক নিয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। ওই বার্তা প্রকাশের পর দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।চীনা দূতাবাসে হামলার হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিটিটিসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, খবর পাওয়ার পর তারা দূতাবাসে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ই-মেইলটি কারা এবং কোন উগ্রবাদী সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠিয়েছে, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। হুমকিদাতাদের চিহ্নিত করার কাজও চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, দূতাবাসের নিরাপত্তার জন্য ডিপ্লোমেটিক জোনের পুলিশ রয়েছে এবং তারাই নিরাপত্তার বিষয়টি দেখবে।সূত্র জানায়, দূতাবাসের নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তাদের অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে পুলিশ ও দূতাবাস কর্মকর্তাদের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনাও ঘটেছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ ও কূটনীতিকদের মধ্যে একাধিক দফায় বৈঠক চলছে।নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে ডিএমপির ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সৈয়দ মোহাম্মদ ফরহাদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল ধরেননি।এদিকে চীনা দূতাবাসে হামলার হুমকির পর বিদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নতুন করে তৎপর হয়েছে। গুলশানসহ বিদেশিদের বসবাসের এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।গোয়েন্দা সূত্র জানায়, চীনা দূতাবাসে হামলার হুমকির পর ঢাকায় থাকা প্রতিটি দূতাবাসের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হুমকি দেওয়া সংগঠনটি শনাক্ত এবং তাদের অবস্থান জানতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: এমএসি/এমটিআই
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত