প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
ভারতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট তিন প্রকল্প বাতিলের প্রস্তাব বাংলাদেশের
স্টাফ রিপোর্টার। ||
ভারতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট তিনটি প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই সেগুলো বাতিলের প্রস্তাব করেছে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নেওয়া প্রকল্প তিনটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৮ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।প্রকল্প তিনটি হলো—‘আশুগঞ্জ অভ্যন্তরীণ কনটেইনার নৌবন্দর স্থাপন’, ‘যমুনা নদী টেকসই ব্যবস্থাপনা প্রকল্প-১ (নেভিগেশনাল চ্যানেল উন্নয়ন)’ এবং ‘আপগ্রেডেশন অব মোংলা পোর্ট’। আশুগঞ্জ ও মোংলা বন্দর প্রকল্প দুটিতে ভারতীয় ঋণ সহায়তা বা এলওসি ছিল। অন্যদিকে যমুনা নদীর প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় নেওয়া হয়েছিল।নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া জানান, ভারত নির্ধারিত সময়ে ঋণের অর্থ ছাড় না করায় প্রকল্পগুলো দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। এতে ব্যয়ও বাড়ছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে প্রকল্পগুলো বাতিলের প্রস্তাব পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পরিবহণের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০১৮ সালে আশুগঞ্জ অভ্যন্তরীণ কনটেইনার নৌবন্দর প্রকল্পটি শুরু হয়। শুরুতে প্রকল্পটির ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। পরে তা বেড়ে ১ হাজার ৭৫১ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। এর মধ্যে ভারতীয় ঋণ সহায়তা থেকে প্রায় ৭৩৩ কোটি টাকা পাওয়ার কথা ছিল।ইতোমধ্যে প্রকল্পটিতে প্রায় ৭৩৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। আশুগঞ্জে প্রায় ৩২ একর জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে ভারত প্রকল্পটি এলওসির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ায় অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে অসমাপ্ত অবস্থায় প্রকল্পটি বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে।অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় ৬২০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে যমুনা নদীর নেভিগেশনাল চ্যানেল উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়। সিরাজগঞ্জ থেকে কুড়িগ্রাম পর্যন্ত নৌপথে বয়াবাতি স্থাপন, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও নৌযান কেনাসহ বিভিন্ন কাজ করার পরিকল্পনা ছিল।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যমান সুবিধা ব্যবহার করেই বাংলাদেশি নৌযান চলাচল করতে পারে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির বড় একটি উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় নৌযানের চলাচল সহজ করা। প্রকল্পটি বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার পর বর্তমানে এর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।তৃতীয় প্রকল্পটি মোংলা বন্দর আধুনিকায়নসংক্রান্ত। ২০২০ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬ হাজার ১৪ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে ভারতের প্রায় ৪ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য ছিল মোংলা বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের নৌ ও সড়কপথ ব্যবহার করে ভারতীয় পণ্য দেশটির অন্য অঞ্চলে পরিবহণের সুযোগ বাড়ানো।এ প্রকল্পে শুধু পরামর্শক খাতেই প্রায় ৩৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে ভারত নির্ধারিত সময়ে ঋণের অর্থ ছাড় করেনি। একই সময়ে মোংলা বন্দর আধুনিকায়নে চীনের বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় ভারতীয় এলওসির প্রকল্পটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।তিনটি প্রকল্পে ইতোমধ্যে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও কাজ শেষ হচ্ছে না। ফলে প্রকল্পগুলো বাতিল হলে এরই মধ্যে ব্যয় করা অর্থের কতটা কাজে লাগানো যাবে এবং নির্মিত অবকাঠামোর ভবিষ্যৎ কী হবে—তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সূত্র: বাংলা ভিউ
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত