প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
২৪-এর আন্দোলন ফাইনাল যুদ্ধ নয়, যুদ্ধের মহড়া ছিল: জামায়াত আমির
স্টাফ রিপোর্টার। ||
২০২৪ সালের আন্দোলনকে চূড়ান্ত যুদ্ধ নয়, বরং যুদ্ধের রিহার্সেল বা মহড়া হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মিলনায়তনে সীরাতুন্নবী (সা.) সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।জামায়াত আমির বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে যারা জেগে উঠেছিলেন, তারা মারা যাননি বা ঘুমিয়ে পড়েননি; বরং তারা সতর্কভাবে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছেন। মূল যুদ্ধের আগে বাহিনী প্রস্তুত করা, কসরত ও মহড়ার প্রয়োজন হয়। তাই ২০২৪ সালের আন্দোলনকে ফাইনাল যুদ্ধ মনে না করার কথাও বলেন তিনি। তার ভাষায়, সেটি ছিল চূড়ান্ত যুদ্ধের রিহার্সেল।তিনি বলেন, ২০২৪ সালের পর দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া ফ্যাসিবাদের ‘পঙ্কিলতা, ময়লা ও আবর্জনা’ দূর হবে বলে আশা করেছিলেন। কিন্তু তা হয়নি; বরং আবর্জনা আরও বেড়েছে।ডা. শফিকুর রহমানের দাবি, ফ্যাসিবাদ একটি সংক্রামক ব্যাধির মতো, যা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। যে ব্যক্তির ওপর এই ‘ভাইরাস’ ভর করবে, সে ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠবে। তার অভিযোগ, ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী সরকার যে পথে চলেছে, বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটছে। তিনি বলেন, এই পথ পরিবর্তন করতে হবে। তার ভাষায়, এটি ফ্যাসিবাদীদের পথ, আয়নাঘরের পথ এবং অসংখ্য মানুষকে বিনা বিচারে হত্যার পথ। বাংলাদেশের মানুষ কাউকে ওই পথে চলতে দেবে না।জুলাই জাদুঘর থেকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেও দাবি করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, সচেতন নাগরিকদের প্রত্যেকেরই এই জাদুঘর পরিদর্শন করা উচিত। তার অভিযোগ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জাতির দুঃখের ঘটনাগুলো সেখানে তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু বিশেষ একটি দেশ ও রাষ্ট্রকে খুশি করার জন্য সেখান থেকে অনেক উপাদান সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ১৯৪৬ বা ১৯৪৭ সাল থেকে দেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তাদের অনেকের বিষয় সেখানে তুলে ধরা হয়েছিল। বর্তমানে এর অনেক কিছুই আর নেই। নির্বাচিত সরকারের হাতে যাওয়ার সময় সেখানে নির্যাতিত অনেক মানুষের স্মৃতিচিহ্ন ও ছবিও ছিল।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি নির্দিষ্ট দলের লোকদের স্মৃতি রাখা হলেও অন্যদের স্মৃতি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, তাকে প্রায় ২০০ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল এবং তার ওপর নির্যাতন করা হয়েছিল। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও তার নাম উল্লেখ করে আক্ষেপ করেছিলেন। তার একটি স্মৃতিও জাদুঘর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।সীমান্তে ফেলানীকে অমানবিকভাবে ঝুলিয়ে হত্যার ঘটনাটির স্মৃতিও সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াত আমির।তিনি বলেন, এটি ভালো লক্ষণ নয়। ক্ষমতায় আসার পর প্রত্যেকেই বলে যে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসে দেখা গেছে, সবাই কোনো না কোনোভাবে ইতিহাস বিকৃতির সঙ্গে জড়িত ছিল। তার মতে, এই অপকর্ম থেকে কেউ বের হতে পারেনি।বক্তব্যে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও পাসপোর্টের শক্তি নিয়েও কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পার হলেও বাংলাদেশ প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোতে পারেনি। বিশ্বে দেশের মানুষের সম্মানের একটি মানদণ্ড হলো পাসপোর্টের শক্তি। কিন্তু বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান হতাশাজনক।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আনম রফিকুর রহমান মাদানীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সূত্র: আমাদের মাতৃভূমি
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত