প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
হেফাজতে ইসলামের সমালোচনার জবাব দিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার। ||
ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতার বিকাশের মাধ্যমে উদার, অসাম্প্রদায়িক ও সর্বজনীন সমাজ প্রতিষ্ঠাকে প্রধান লক্ষ্য ধরে ধর্ম মন্ত্রণালয় কাজ করবে বলে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর নিয়োগ নিয়ে হেফাজতে ইসলামের কঠোর সমালোচনার বিষয়ে এক সাংবাদিক তার বক্তব্য জানতে চাইলে শামীম কায়সার বলেন, দেশের সব ধর্ম ও মতের মানুষের পারস্পরিক সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমেই মন্ত্রণালয়ের ভিশন ও মিশন বাস্তবায়ন করা হবে।ওলামায়ে কেরাম ও বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, তারা জামিয়া মাদানিয়া বারিধারায় গিয়ে মুহতারাম মনির কাসিম হাফিজুল্লাহ এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে যেমন সবাই একটি দলকে ভোট দেন না, তেমনি কোনো নিয়োগও শতভাগ মানুষের পছন্দ হবে—এমনটি নয়। তবে যোগাযোগ যত বাড়বে, ভুল বোঝাবুঝিও তত কমে আসবে।ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, তিনি এ মন্ত্রণালয়ে নতুন। তাই দেশের প্রথিতযশা ওলামায়ে কেরাম এবং বিভিন্ন ধর্মের গুরু ও নেতাদের কাছে যাওয়া তার দায়িত্ব। সবার সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে যেকোনো ধরনের কনফিউশন বা ভুল বোঝাবুঝি সহজেই দূর করা সম্ভব।মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও অগ্রাধিকার সম্পর্কে তিনি বলেন, বিগত হজে প্রধানমন্ত্রীর সদয় সিলেকশনে জাতীয় হজ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও হজ মনিটরিং কমিটিতে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল। ফলে অনেকের সঙ্গে তার পূর্বপরিচয় রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক বা অন্য যেকোনো দাপ্তরিক কাজে কোনো স্থবিরতা কিংবা পিছিয়ে থাকা থাকলে তা দ্রুত দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে একটি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছিলেন। দেশের প্রায় শতভাগ মানুষ ধর্মপ্রাণ। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নাগরিকদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজ নিজ ধর্মীয় মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিজ নিজ ধর্মগ্রন্থের সঠিক শিক্ষা চর্চা ও ধারণের মাধ্যমে সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য আরও বৃদ্ধি পায়।তিনি বলেন, পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ধর্মীয় মূল্যবোধ ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে ধারণ করে দলটিকে বর্তমান অবস্থানে নিয়ে এসেছিলেন।বর্তমান সরকারের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা তুলে ধরে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সুখী, সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব কর্মসূচি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য সরকার দিনরাত কাজ করছে। দেশ ও জাতি গঠনে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভিশন ও মিশন বাস্তবায়নে তিনি সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
সূত্র: বিডি ২৪
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত