প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
১৭ বছর ধরে নিজের চুল নিজেই কাটছেন সাবেক শিবির নেতা
স্টাফ রিপোর্টার। ||
নাপিতের দোকানে চুল কাটানোর জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। সেই অপেক্ষার বিরক্তি থেকেই প্রায় ১৭ বছর আগে নিজের চুল নিজেই কাটার সিদ্ধান্ত নেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা মুজাহিদুল ইসলাম। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত নিজের চুল নিজেই কেটে আসছেন তিনি।মুজাহিদুল ইসলাম দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাসুদেবপুর (পুরাতন বন্দর) গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় দাওয়া সম্পাদক এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি। বর্তমানে তিনি পার্বতীপুর উপজেলার ভবানীপুর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় প্রভাষক হিসেবে কর্মরত।জানা গেছে, হাফেজি মাদ্রাসায় পড়ার সময় সপ্তাহজুড়ে মাদ্রাসার নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে থাকতেন মুজাহিদুল ইসলাম। শুক্রবার ছিল তার নানা পরিকল্পনার দিন। কিন্তু ওই দিনের বড় একটি অংশ নাপিতের দোকানে চুল কাটার অপেক্ষাতেই চলে যেত। চুল কাটাতে আগে সিরিয়াল নিতে হতো, আর সিরিয়াল পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতো। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চুল কাটানোর সুযোগ মিলত না।একদিন সেই দীর্ঘ অপেক্ষা থেকেই নিজের চুল নিজে কাটার জেদ তৈরি হয় তার মধ্যে। বাজার থেকে একটি কাঁচি ও চিরুনি কিনে শুরু করেন অনুশীলন। সেই সময় থেকে প্রায় ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও অভ্যাসটি বদলায়নি। এখনো নাপিতের দোকানে না গিয়ে নিজের চুল নিজেই কাটেন তিনি।মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০০৬ সালের দিকে আমাদের এলাকার একজন নাপিত খুব সুন্দর করে চুল কাটতেন। তার কাছে চুল কাটাতে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হতো। বিষয়টি আমার কাছে খুবই বিরক্তিকর লাগত। এই ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে নিজেই চুল কাটার সিদ্ধান্ত নিই। এরপর একটি কাঁচি ও চিরুনি কিনে বাড়িতে আয়নার সামনে অনুশীলন শুরু করি।’তিনি জানান, প্রথমদিকে নিজের চুলে অনুশীলন করে খুব একটা সুবিধা করতে পারছিলেন না। পরে মাদ্রাসার এক ছোট ভাইকে বুঝিয়ে তার চুল কেটে দেন। কিন্তু ফলাফল ভালো হয়নি। শেষ পর্যন্ত ওই ছাত্রের মাথা ন্যাড়া করে দিতে হয়েছিল।মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এরপর নিজের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি মাদ্রাসার সহপাঠী ও ছোটদের চুল কাটতে শুরু করি। ধীরে ধীরে কাঁচি ও চিরুনির ব্যবহার আয়ত্তে চলে আসে।’তিনি আরও বলেন, ‘একসময় মনে হলো, অন্যের চুল কাটতে পারলে নিজের চুল কাটার জন্য কেন অন্যের কাছে যেতে হবে? এরপর নিজের চুল নিজেই কাটার অনুশীলনে আরও মনোযোগ দিই। কোন জায়গায় কতটুকু চুল কাটতে হবে এবং কোথায় কাঁচি ব্যবহার করতে হবে—এসব ধীরে ধীরে আন্দাজে শিখে যাই। গত ১৭ বছরে এই অভ্যাস আর পরিবর্তন হয়নি। চুল বড় হলেই আয়না, কাঁচি ও চিরুনি নিয়ে বসে পড়ি।’মুজাহিদুল ইসলামের ছোট ভাই মোকাররম হোসেন বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমার ভাই মেধাবী এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। তিনি মাদ্রাসা থেকে ছুটিতে বাড়িতে এলে আমাদের চুল কেটে দিতেন। পরে একসময় দেখি, নিজের চুলও নিজেই কাটছেন। প্রথমদিকে বিষয়টি আমাদের কাছে বেশ অবাক করার মতো ছিল। এখন মনে হয়, ইচ্ছা ও অভ্যাস থাকলে মানুষ অনেক কিছুই শিখতে পারে।’শিবনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ছামেদুল ইসলাম বলেন, ‘শুনেছি মুজিদুল ইসলাম প্রায় ১৭ বছর ধরে নিজের চুল নিজেই কাটেন। এতে তার সময় ও অর্থ—দুটিই সাশ্রয় হচ্ছে। বেঁচে যাওয়া সময় তিনি নিজের ও পরিবারের জন্য ব্যয় করেন।’
সূত্র: কালবেলা/এলএইচ/এমএ
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত