প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
সম্মানজনক আমন্ত্রণ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
স্টাফ রিপোর্টার। ||
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে এখনই কোনো তাড়াহুড়ো করতে চায় না বাংলাদেশ। পারস্পরিক আস্থা, সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, কূটনৈতিক আলোচনা এবং মর্যাদাপূর্ণ আমন্ত্রণের মাধ্যমে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলেই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।তিনি জানান, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে আলোচনা থাকলেও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ আপাতত কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো না করার নীতিতে রয়েছে।পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে হলে পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের ভিত্তি শক্তিশালী করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জনগণের প্রত্যাশাকেও ভারতকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। নির্দিষ্ট বিষয়ে দুই দেশের ঐকমত্য এবং মর্যাদাপূর্ণ আমন্ত্রণ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উচ্চপর্যায়ের সফরের আয়োজনের যৌক্তিকতা নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও অসন্তোষ জানান হুমায়ুন কবির। তাঁর দাবি, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বা অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ কূটনৈতিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী চাপ অব্যাহত রাখবে বলে জানান তিনি।পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশগুলো এবং চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিনি জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির কাজ চলছে। একই সঙ্গে চীন থেকে বিনিয়োগ আনা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।এ ছাড়া আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে নতুন বাজার তৈরির উদ্যোগ, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রচেষ্টা এবং রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও জানান তিনি।সব মিলিয়ে সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক সম্মানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
সূত্র: মাতৃভূমির খবর
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত