প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
অর্ধশতাব্দীর ভাঙনের অবসানের পথে, দৃশ্যমান ৩ হাজার কোটি টাকার তীররক্ষা বাঁধ
স্টাফ রিপোর্টার। ||
দীর্ঘ প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে মেঘনার ভয়াবহ নদীভাঙনে বিপর্যস্ত লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগরের মানুষের মধ্যে এখন আশার সঞ্চার হয়েছে। ৩ হাজার ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ মেঘনা নদীর তীররক্ষা বাঁধের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের অগ্রগতিতে নদীপাড়ের প্রায় ৭ লাখ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।গত ৫০ বছরে মেঘনার ভাঙনে লক্ষ্মীপুরের রামগতি, কমলনগর ও সদর উপজেলার মজুচৌধুরীর হাট এলাকার প্রায় ৩৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের বড় একটি অংশ নদীতে বিলীন হয়েছে। নদীভাঙনে হাজার হাজার ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক, বাজার-ঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা হারিয়ে গেছে। ভিটেমাটি হারিয়ে অনেক পরিবারকে একাধিকবার নতুন আশ্রয়ের সন্ধান করতে হয়েছে।দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের পর ২০২১ সালের ১ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৩ হাজার ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে মেঘনা নদীর তীররক্ষা প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। এরপর ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি কমলনগরের সাহেবেরহাটে জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের মধ্য দিয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।৯৯টি প্যাকেজে টেন্ডার আহ্বানের পর ৪৩টি অংশে কাজ শুরু করা হয়। তবে বিভিন্ন সময়ে নির্মাণকাজে ধীরগতি ও সাময়িক স্থবিরতা দেখা দেয়। পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে পুনরায় কাজ পুরোদমে শুরু করা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বর্তমানে প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।তীররক্ষা বাঁধের নির্মাণকাজ দৃশ্যমান হওয়ায় দীর্ঘদিন নদীভাঙনের আতঙ্কে থাকা মানুষের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ হলে তারা স্থায়ীভাবে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবেন। এর পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নতি হবে বলে তারা মনে করছেন।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তীররক্ষা বাঁধকে কেন্দ্র করে নদীর তীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কাজে লাগিয়ে নতুন পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব হতে পারে। তাদের মতে, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাহিদ-উজ-জামান খাঁন জানান, প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বাকি কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। আশা করা হচ্ছে, বছরখানেকের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে।চার যুগের বেশি সময় ধরে মেঘনার ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে পড়া হাজারো পরিবার এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছে। তাদের প্রত্যাশা, প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ হলে নদীভাঙনের দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে এবং রামগতি-কমলনগরের অর্থনীতি, যোগাযোগ ও জীবনযাত্রায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।
সূত্র: স্টার নিউজ
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত