প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬
ইমরান খানের চিকিৎসায় বিশেষ সুবিধা, আইনের সমতা নিয়ে প্রশ্ন
ডেক্স রিপোর্ট। ||
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া বিশেষ নির্দেশকে ঘিরে আইনের দৃষ্টিতে সমতার প্রশ্ন উঠেছে। কারাগার থেকে তাকে বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া, পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের সুযোগ এবং চিকিৎসায় বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।গত ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ ইমরান খানকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তার চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন এবং সপ্তাহে পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ১৬ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা রয়েছে।ইমরানের পরিবার ও তার রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) অভিযোগ করছে, কারা কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করছে না। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার ওই আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য রিভিউ আবেদন করেছে।তবে বিতর্কের কেন্দ্রে ইমরানকে চিকিৎসা দেওয়া হবে কি না, সেটি নয়। মূল প্রশ্ন হচ্ছে—দেশটির অন্য কোনো বন্দি একই ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়লে তিনি কি একই ধরনের সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখবেন?পাকিস্তানের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিকের সমতার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইমরান খান প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানবিক আচরণ পাওয়ার অধিকার রাখেন। কিন্তু তার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে যদি অন্য বন্দিদের তুলনায় অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হয়, তাহলে তা আইনের সমতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।গুরুতর অসুস্থতার প্রমাণ নিয়ে প্রশ্নপ্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়ার সময় তার পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা নথি সুপ্রিম কোর্টের হাতে ছিল না।গত ১ আগস্ট পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (পিআইএমএস) একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ইমরানের রক্তচাপ ১৪০/১০০ পান। তাকে রক্তচাপ কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে ১০ আগস্ট চার সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড তার রক্তচাপ ১৪০/৮০ পায় এবং প্রতিদিন এক ঘণ্টা হাঁটার পরামর্শ দেয়।তবে এসব তথ্য গুরুতর চিকিৎসা জরুরি অবস্থার স্পষ্ট প্রমাণ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এর কয়েক দিন পর ২১ আগস্ট ইমরানের বোন ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. উজমা খান এক সংবাদ সম্মেলনে তার ভাইকে ‘১০০ শতাংশ ফিট’ বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি ইমরানকে মানসিক নির্যাতন, একাকী রাখা এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ করেন।ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে এর আগেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, তিনি ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির বড় একটি অংশ হারিয়েছেন। তবে সরকার এ দাবির সঙ্গে আপত্তি জানিয়েছিল। পরে তার চোখের অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে জানানো হয়।পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, ২০২৩ সালে কারাবন্দি হওয়ার পর ইমরানকে প্রায় ৩০ বার বিভিন্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়েছে।অন্য বন্দিরাও কি একই সুবিধা পাবেন?ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে চলমান বিতর্কে এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—একই ধরনের অসুস্থতার কথা জানিয়ে অন্য কোনো বন্দি আদালতের শরণাপন্ন হলে তাকেও কি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা, ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং পরিবারের সদস্যদের বিশেষ সহায়তা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে?বিশ্লেষকদের মতে, বন্দিদের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। তবে কোন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হবে, কত দিন হাসপাতালে রাখা হবে এবং কখন তাকে কারাগারে ফেরানো হবে—এসব বিষয়ে চিকিৎসকদের পেশাগত মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।ইমরান খানের চিকিৎসার ঘটনাটি তাই পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থার সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হাজির করেছে—আইনের চোখে সব বন্দি কি সমান, নাকি রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের কারণে কেউ বিশেষ সুবিধা পাবেন?সূত্র: সাউথ এশিয়া মনিটর
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত