প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার। ||
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করলে শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। মানবসভ্যতার ইতিহাসে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভাগমন একটি অনন্য ও মহিমান্বিত ঘটনা। তাঁর আবির্ভাব মানুষের সামনে সত্য ও আলোর নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। তাওহিদের দিকে আহ্বানের পাশাপাশি তিনি সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর পবিত্র জীবন ও কর্ম সমগ্র মানবজাতির জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ ও অনুসরণীয় আদর্শ হয়ে আছে।ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ বিশ্বের সব মুসলিমের প্রতি মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবজাতির হেদায়াত ও কল্যাণের জন্য সর্বশেষ নবী ও রাসূল, রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে পাঠানোয় মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। মহানবী (সা.)-এর প্রতি অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।তিনি পবিত্র কুরআনের সূরা আল-আহযাবের ২১ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালা রাসুলের মধ্যে উত্তম আদর্শ থাকার কথা বলেছেন। মহানবী (সা.)-এর জীবন ছিল কুরআনের শিক্ষার বাস্তব ও জীবন্ত প্রতিফলন। সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, দয়া ও পরোপকারে তিনি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর জীবনাচরণে আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্যের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও মহানুভবতার প্রকাশ পাওয়া যায়।মহানবী (সা.) জাতি, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও সামাজিক অবস্থানের বিভেদ পেরিয়ে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল ও সহমর্মী হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন মহানবী (সা.)। পরিবার, প্রতিবেশী, নারী, শিশু এবং সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষায়ও তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর শিক্ষা মানুষে মানুষে বিভেদ নয়, বরং ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের বন্ধনকে শক্তিশালী করে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্ব বিভিন্ন সংকট ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা ও নৈতিক অবক্ষয় মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনকে বাধাগ্রস্ত করছে। এমন পরিস্থিতিতে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করে শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।তিনি বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মই ভবিষ্যৎ। তাদের মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রতা ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে জ্ঞান, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের চেতনায় গড়ে তুলতে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনন্য প্রেরণার উৎস হতে পারে। তাঁর আদর্শ তরুণদের সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকা, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে উৎসাহিত করতে পারে।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্যই নয়, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর আদর্শ ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক আচরণে ধারণ করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও ন্যায়বোধ জোরদার করার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।তিনি বলেন, মহান আল্লাহ যেন সবাইকে প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণের তাওফিক দেন। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ ব্যক্তি ও সমাজজীবনে সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার চেতনাকে আরও শক্তিশালী করুক। বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে শান্তি, ন্যায়, সাম্য, সমৃদ্ধি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত হোক—পবিত্র দিনে এটাই তাঁর আন্তরিক প্রার্থনা।পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেশবাসী ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক