প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
ঘুস নেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, প্রধান শিক্ষক বললেন ‘গোপনে ধারণ, নিন্দা জানাই’
স্টাফ রিপোর্টার। ||
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল হকের বিরুদ্ধে দপ্তরির চাকরি দেওয়ার কথা বলে দুই লাখ টাকা এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য পদ দেওয়ার নামে এক লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্য প্রার্থী মাসুদ রানার সঙ্গে প্রধান শিক্ষক নাজমুল হককে কথা বলতে দেখা যায়।ভিডিওতে কথোপকথনের একপর্যায়ে মাসুদ রানা প্রধান শিক্ষককে প্রশ্ন করেন, যে ব্যক্তি তাকে ডিম সিদ্ধ করে খাওয়ান, তার কাছ থেকেও দপ্তরির চাকরি দেওয়ার কথা বলে দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে কি না। তিনি বলেন, তাহলে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে।জবাবে প্রধান শিক্ষক নাজমুল হক বলেন, ‘২ লাখ নিছি, সামনে আরও ১০ লাখ নিয়াম। এইবার তো শুরু।’ তিনি আরও বলেন, ইউএনওর কাছে দেওয়া অভিযোগে ঘুস নেওয়ার বিষয়টি লেখা হচ্ছে কি না।এদিকে ছেলের দপ্তরি চাকরির জন্য প্রধান শিক্ষককে দুই লাখ টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন ভুক্তভোগী বাবা নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ছেলে কাউসারের চাকরির জন্য ঋণ করে দুই লাখ টাকা দিয়েছিলেন। পরে জানতে পারেন, দপ্তরির চাকরি দেওয়ার ক্ষমতা প্রধান শিক্ষকের নেই। টাকা ফেরত চাইলে তিনি নানা টালবাহানা করেন। পরে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো টাকা ফেরত পাননি তিনি।ভিডিওতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য পদ দেওয়ার নামেও অর্থ নেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। সদস্য করার কথা বলে ১০ হাজার টাকা করে নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধান শিক্ষক দাবি করেন, এই টাকা নেওয়ার বিষয়ে সরকারি চিঠি রয়েছে এবং বিষয়টি টিও ও এটিও স্যাররাও জানেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, যিনিই সভাপতি হন, তাকে তার কাছে আসতে হবে।প্রধান শিক্ষকের কথোপকথনের এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ক্ষোভ ও নিন্দা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল একজন শিক্ষকের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক নাজমুল হক বলেন, তার অজান্তে গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। তিনি এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ বলেন, এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার কথা তিনি শুনেছেন। এতে দপ্তরের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: যুগান্তর
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত