প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের অভিযোগে ভারতের ৪ প্রতিষ্ঠান ও ৩ নাগরিকের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
ডেক্স রিপোর্ট। ||
ইরানের পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল বাণিজ্যে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ভারতের চারটি প্রতিষ্ঠান ও তিন নাগরিকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির নতুন চালু করা ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর আওতায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইরানের ইসলামী সরকারের অর্থের উৎস বন্ধ করাই এই অভিযানের উদ্দেশ্য।মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—পোরটিজ পার্টনার্স এলএলপি, সদাশিবা ওভারসিজ লিমিটেড, পিপি সফটটেক প্রাইভেট লিমিটেড এবং প্রকৃতিস ইনফ্রা ইমপেক্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড।নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা তিন ভারতীয় নাগরিক হলেন পোরটিজ পার্টনার্সের দুই অংশীদার হরিশ রামচন্দ্র রাঙ্গি ও ইন্দ্রিসমিয়া আশরাফমিয়া শেখ এবং পিপি সফটটেকের প্রশান্ত গার্গ।মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অভিযোগ, কাস্টমস ব্রোকার প্রতিষ্ঠান পোরটিজ পার্টনার্স ইরান থেকে ভারতে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য আমদানির চালান আনার কাজে সহযোগিতা করেছে।এ ছাড়া সদাশিবা ওভারসিজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ইরানি পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে পিপি সফটটেক ও প্রকৃতিস ইনফ্রা ইমপেক্সের বিরুদ্ধে প্রায় আড়াই কোটি ডলার করে ইরানি পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র।মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ইরান থেকে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য কেনা, সংগ্রহ, বিক্রি, পরিবহন কিংবা বাজারজাতকরণে উল্লেখযোগ্য লেনদেনে জেনেশুনে সম্পৃক্ত থাকার কারণেই এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।একই সময়ে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল বাণিজ্য থেকে দেশটির আয় কমিয়ে অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করাই এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য।যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিতইরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র চলতি সপ্তাহের শুরুতে সতর্ক করে জানিয়েছিল, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা অব্যাহত রাখলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে সে সময় তাৎক্ষণিক কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়েছিল।এর মধ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার সময় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি কূটনৈতিক মিশনে কর্মীদের ফেরত পাঠানো শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। উত্তেজনার কারণে এসব মিশন থেকে আগে কর্মী সরিয়ে নেওয়া বা জনবল কমানো হয়েছিল।রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, স্বল্পমেয়াদে ইরানের সঙ্গে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। তবে কয়েকটি দূতাবাস শুরুতে সীমিত জনবল দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
সূত্র: এনডিটিভি
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত