প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
ফাঁসি ছাড়া অন্য কোনো রায় মেনে নেব না: আছিয়ার মা
স্টাফ রিপোর্টার। ||
মাগুরার বহুল আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ফাঁসি ছাড়া অন্য কোনো রায় গ্রহণ করবেন না বলে জানিয়েছেন শিশুটির মা মোছা. আয়েশা বেগম। তিনি বলেন, তিনি আসামিদের ফাঁসি চান। ফাঁসি ছাড়া অন্য কোনো রায় তিনি মেনে নেবেন না। তবে রায় ঘোষণার তারিখ বারবার পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর হাইকোর্টে রায় ঘোষণার তারিখ পিছিয়ে দেওয়ার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন আয়েশা বেগম।তিনি বলেন, তারা আশা করেছিলেন সরকার সঠিক বিচার করবে। মামলা দেড় বছর হয়ে গেলেও রায় কতদিন পিছোবে তা তিনি জানেন না। নিজেকে দরিদ্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার অর্থনৈতিক সামর্থ্য নেই এবং মামলা পরিচালনায় অর্থ ব্যয় করাও তার পক্ষে সম্ভব নয়। এ কারণে তাকে ঘোরানো হচ্ছে এবং তার সঙ্গে ছলনা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সহযোগিতা করার মতো কেউ না থাকায় সঠিক বিচার পাচ্ছেন না বলেও জানান। আদালত যদি ফাঁসির রায় দিতে না পারে, তাহলে আসামিদের ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।মঙ্গলবার এ মামলায় রায় ঘোষণার দিন নির্ধারিত ছিল। তবে রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রায় ঘোষণার নতুন তারিখ আগামী সোমবার (৩১ আগস্ট) নির্ধারণ করেন আদালত। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।রায় পেছানোর আবেদন জানিয়ে আদালতের কার্যক্রমের শুরুতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক বলেন, এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানি করেছেন। তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ সময় চাচ্ছে। পরে আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী সোমবার রায়ের দিন ধার্য করেন।আদালতে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে রয়েছেন হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) বহুল আলোচিত মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর রায়ের জন্য ২৫ আগস্ট দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।মাগুরা সদর উপজেলায় ঘটে শিশু আছিয়ার নির্মম ঘটনাটি। গত রমজানের ছুটিতে শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গত বছরের ৫ মার্চ রাতে ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। বোনের শ্বশুর হিটু শেখ তাকে ধর্ষণের পাশাপাশি হত্যারও চেষ্টা করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে আট বছর বয়সী শিশুটির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করে।২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মামলাটিতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মামলায় ২৯ জন সাক্ষ্য দেন। গত বছরের ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়।এক বছর আগে ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্ক শেষে একই বছরের ১৭ মে রায় ঘোষণা করা হয়। শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। রায়ে অপর তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীব শেখের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)।ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় হলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার নথিপত্র উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। সেই অনুযায়ী এ মামলার নথিও গত বছরের ২১ মে উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য তা বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর গত বছরের ৮ জুন তা হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর মামলাটি শুনানির জন্য বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সূত্র: বাংলাধারা
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত