প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
লাখো মানুষের অংশগ্রহণে চট্টগ্রামে ৫৫তম ‘জশনে জুলুস’
স্টাফ রিপোর্টার। ||
হামদ, নাত, তাকবির, দরুদ শরিফ ও জিকিরে মুখর হয়ে ওঠে চট্টগ্রাম নগরী। বুধবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৫৫তম ‘জশনে জুলুস’। ভোর থেকেই নগরের ষোলশহর ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন বয়সী মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে জনসমাগম।গত বছরের জশনে জুলুসে পদদলিত হয়ে দুজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটায় এবার শুরু থেকেই নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আয়োজকদের সতর্ক অবস্থানের মধ্যে কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছে এবারের আয়োজন।বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা-সংলগ্ন আলমগীর খানকা-এ-কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া থেকে জুলুস শুরু হয়। এতে নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লাখো মানুষ অংশ নেন।১৯৭৪ সাল থেকে প্রতিবছর ১২ রবিউল আউয়াল আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রামে জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৪ সালে আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহ.) এ জুলুসের সূচনা করেন।এবারের জুলুসে নেতৃত্ব দেন সৈয়দ মুহাম্মদ সাবের শাহ। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ।ভোর থেকেই নগর ও জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ জুলুসে যোগ দিতে ষোলশহর এলাকায় আসতে থাকেন। কেউ হেঁটে, আবার কেউ ট্রাক ও পিকআপে করে সেখানে পৌঁছান। জুলুস ঘিরে চারপাশে কোরআন তিলাওয়াত, হামদ, নাত ও দরুদ শরিফের সুর ছড়িয়ে পড়ে।জুলুস উপলক্ষে মুরাদপুর থেকে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা পর্যন্ত বসে ভাসমান মেলা। বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি, শরবত ও খাবার বিতরণ করা হয়। নগরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়ক বিভাজকগুলো তোরণ, পতাকা, ফেস্টুন ও ব্যানারে সাজানো হয়।জুলুসের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আনজুমান ট্রাস্টের প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করেন। মুসল্লিদের সুবিধার জন্য মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকায় অস্থায়ী শৌচাগার স্থাপন করা হয়।নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী ষোলশহর থেকে জুলুসটি বিবিরহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, ওয়াসা, দামপাড়া, লালখান বাজার ও টাইগারপাস হয়ে নির্ধারিত পথে ফিরে জুলুস ময়দানে গিয়ে শেষ হয়।এদিকে জশনে জুলুসকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও জুলুসের রুটে গোয়েন্দা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।গত বছর জশনে জুলুস চলাকালে পদদলিত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও অন্তত ছয়জন আহত হন। ওই ঘটনার পর এবার জুলুস ঘিরে নিরাপত্তা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।এবার অবশ্য কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। বিপুল মানুষের অংশগ্রহণ সত্ত্বেও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত জশনে জুলুস।চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জশনে জুলুস শেষ হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে পুলিশের প্রস্তুতি ছিল।
সূত্র: বাংলাধারা
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত