প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
দুর্নীতির ১৫ মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস
স্টাফ রিপোর্টার। ||
দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা ১৫টি মামলায় খালাস পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মির্জা আব্বাস। বিনা দরপত্রে ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রির মাধ্যমে ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালে মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছিল।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান এ রায় ঘোষণা করেন।আদালত সূত্রে জানা যায়, বিনা দরপত্রে ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রির অভিযোগে মির্জা আব্বাসসহ ২১ জনকে আসামি করে দুদক পৃথক ১৫টি মামলা দায়ের করে। মামলাগুলোতে অভিযোগ করা হয়, এতে সরকারের ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকার ক্ষতি হয়েছে। মির্জা আব্বাসসহ ১২ জনকে প্রতিটি মামলায় আসামি করা হয়।অন্য আসামিরা হলেন—এস এম জাফর উল্লাহ, মো. এমদাদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, গোলাম নবী, কাজী রিয়াজুল মনির, জিয়াউদ্দিন আহমেদ, আব্দুস সাদেক, হুমায়ুন খান, মীর মোশাররফ হোসেন, ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী ও মো. শহীদ আলম।এ ছাড়া আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও আহমেদ আকবর সোবহানকে দুটি করে মামলায় এবং মেহেদী হাসান, শফিকুর রহমান কিরন, নুরুচ্ছাফা, মো. শুকুর মিয়া, হাসনা আহমেদ ও আলী হায়দার চৌধুরীকে পৃথক মামলায় আসামি করা হয়। এসব মামলায় তারাও প্রত্যেকে খালাস পেয়েছেন।২০০৭ সালের ২৯ মার্চ মামলাগুলো দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিলের পর ওই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।মামলার অভিযোগে বলা হয়, পরিত্যক্ত বাড়ি নম্বর এনডব্লিউ (আই)-৬, রোড নম্বর-৫৩, গুলশান; বাড়ি নম্বর কে-৬, সড়ক নম্বর-৮৯, গুলশান; বাড়ি নম্বর সিএনজি-১৬, সড়ক-১১৩, গুলশান; বাড়ি নম্বর বি-৫, সড়ক নম্বর-১১৩, গুলশান; বাড়ি নম্বর-১২০, সড়ক-২, পুরাতন ধানমণ্ডি; বাড়ি নম্বর-১৩৯, সড়ক নম্বর-২, ধানমণ্ডি; বাড়ি নম্বর-৫৪০/এ (পুরাতন), সড়ক নম্বর-১২, ধানমণ্ডি; বাড়ি নম্বর-৫৪০/বি (পুরাতন), সড়ক নম্বর-১২ (পুরাতন); বাড়ি নম্বর-৭২৩/এ (পুরাতন), সড়ক নম্বর-১৪ (পুরাতন); বাড়ি নম্বর-৭২৩/বি, সড়ক নম্বর-১৪, ধানমণ্ডি; ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকার ১৭ নম্বর ও ১৮ নম্বর কলেজ স্ট্রিট এবং বাড়ি নম্বর-৭/১, নওরতন কলোনি, শান্তিনগরসহ মোট ১৮টি পরিত্যক্ত বাড়ি ছিল।অভিযোগে আরও বলা হয়, রাজউক কর্তৃক সাজানো দরপত্রে কারচুপি ও দুর্নীতির মাধ্যমে পছন্দের ব্যক্তিদের এসব বাড়ি পাইয়ে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে আসামিরা নিজেরা লাভবান হন এবং সরকারের ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকার আর্থিক ক্ষতি করেন।সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে দ্য বাংলাদেশ অ্যাবানডন্ড প্রপার্টি (কন্ট্রোল, ম্যানেজমেন্ট ও ডিসপোজাল) অর্ডার, ১৯৭২ অনুযায়ী উল্লিখিত ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রির ব্যবস্থা না করে লাভবান ও অন্যান্য প্রভাবশালীদের সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবস্থা নেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।এতে আরও বলা হয়, গণপূর্ত অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের দেওয়া বেশি দর বিবেচনায় না নিয়ে রাজউক কর্তৃক সাজানো কম মূল্যের দরপত্রের মাধ্যমে মূল্যায়ন না করেই বাড়িগুলো বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়।মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, মির্জা আব্বাসসহ অপর আসামিরা দণ্ডবিধির ৪০৯, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারাসহ দণ্ডবিধির ১০৯ ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।মামলার বিচার চলাকালে আদালত ২৪ সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।
সূত্র: এশিয়া পোস্ট
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত