প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
মেয়েদের প্রশিক্ষণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধেও
স্টাফ রিপোর্টার। ||
নওগাঁর মান্দায় মেয়েশিক্ষার্থীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণের নামে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বিশেষ বরাদ্দের প্রায় ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথীর বিরুদ্ধে।সরকারি নীতিমালা অনুসরণ না করে ভুয়া স্বাক্ষর ও বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নথিপত্রে দুই দিনের পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের বড় অঙ্কের ভাতার হিসাব দেখানো হলেও বাস্তবে একদিনেই দায়সারাভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করা হয়। শিক্ষার্থীদের ভাতার অর্থ না দিয়ে প্রত্যেককে একটি করে স্যানিটারি প্যাড ও সামান্য নাস্তা দিয়ে বিদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের এডিপির বিশেষ বরাদ্দ থেকে ৬৪ জন শিক্ষার্থী ও চারজন প্রশিক্ষকের জন্য মোট ২ লাখ ৯৮ হাজার ২৭৮ টাকা ব্যয়ের হিসাব ধরা হয়েছে। বাজেট অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষার্থীর দৈনিক ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা। দুই দিনে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পাওয়ার কথা ৩ হাজার টাকা। অন্যদিকে চারজন প্রশিক্ষকের দৈনিক ভাতা ৩ হাজার টাকা করে দুই দিনের জন্য মোট ২৪ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে।অভিযোগে বলা হয়েছে, কাগজে-কলমে সব শিক্ষার্থীর শতভাগ উপস্থিতি দেখিয়ে বরাদ্দের পুরো অর্থের হিসাব ঠিক রাখা হয়েছে। গত ১৫ জুন আয়োজিত কর্মসূচির নথিতেও শতভাগ উপস্থিতি দেখানো হয়। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, বাস্তবে ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীরা কোনো ভাতা পাননি। অথচ ভুয়া স্বাক্ষরের মাধ্যমে ৬৪ শিক্ষার্থীর দুই দিনের প্রশিক্ষণের পুরো অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।মান্দা থানা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষিকা পারভীন বেগম বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকে তিনজন শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণে অংশ নেয়। দুপুরের খাবার ছাড়া তাদের কোনো ভাতা দেওয়া হয়নি।বিদ্যামাধুরী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভারতী রানী বলেন, শিক্ষার্থীদের কোনো ভাতা দেওয়া হয়নি। তাদের হাতে খাবারের প্যাকেট ও স্যানিটারি প্যাড দেওয়া হয়েছে। যাতায়াতের জন্য দেওয়া হয়েছে ১ হাজার টাকা খরচ।প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. জয়নাল আবেদিন বলেন, ১৫ জুন এক দিনের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। তিনি এক দিনের ভাতা হিসেবে ৩ হাজার টাকা পেয়েছেন। বাজেট অনুযায়ী চারজন প্রশিক্ষকের দুই দিনের জন্য ২৪ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও এক দিনের ভাতা হিসেবে মোট ১২ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, শিক্ষার্থীদের নগদ ভাতা না দিয়ে স্যানিটারি প্যাড ও খাবার দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো ভাতা দেওয়া হয়নি। ভাতার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কিছু খরচ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: এনটিভি
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত