প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬
নওগাঁয় পৌঁছেছে সৌদি অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭ জনের মরদেহ, সকাল ১০টায় জানাজা
স্টাফ রিপোর্টার। ||
সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাতজনের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর নিজ এলাকায় নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো আত্রাইয়ে পৌঁছায়।এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৪টা ৫ মিনিটের দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৪০ ফ্লাইটে সৌদি আরব থেকে মরদেহগুলো বাংলাদেশে আনা হয়।আত্রাইয়ে মরদেহ পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের শেষবারের মতো দেখতে রাত থেকেই আত্রাই থানা কম্পাউন্ডে স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও জড়ো হতে থাকেন।জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শুক্রবার সকাল ১০টায় আত্রাই মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে সাতজনের জানাজা একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজা শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হবে।আত্রাইয়ের যেসব পরিবার হারাল স্বজনসৌদি দূতাবাসের পাঠানো তালিকা অনুযায়ী, শনাক্ত হওয়া নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাতজন হলেন—উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো. ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামানিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদের কাউন্সেলর মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বির স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে মরদেহ শনাক্ত হওয়ার তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। সৌদি কর্তৃপক্ষ ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে নয়জনের পরিচয় শনাক্ত করেছে।আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান জানান, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে প্রশাসন নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের সমন্বয়ে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে মরদেহগুলো কোনো খরচ ছাড়াই আত্রাইয়ে আনা হয়েছে।ইউএনও আরও জানান, সৌদি আরবের অগ্নিকাণ্ডের পর প্রথম দিকে আত্রাই উপজেলার ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। বর্তমানে উপজেলার ১১ জনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি নওগাঁ সদর উপজেলার একজনের পরিচয়ও নিশ্চিত করা হয়েছে। বাকি মরদেহগুলো দেশে আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।তিনি বলেন, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে সাতজনের মরদেহের জানাজা একসঙ্গে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানাজা শেষ হলে পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত