প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে চায় ভারত
ডেক্স রিপোর্ট। ||
যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি কাঁধে বহনযোগ্য জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড মিসাইল সিস্টেম (ATGM) কেনার পরিকল্পনা করছে ভারত। শুক্রবার ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর এ তথ্য জানিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।গোর এটিকে ‘বড় খবর’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্রের যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনার পথও এর মাধ্যমে উন্মুক্ত হতে পারে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ভারত যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাংক সিস্টেম কেনার পরিকল্পনা করছে। তার মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্র-ভারত প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এবং জ্যাভলিনের যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি করবে। একই সঙ্গে দুই দেশের পারস্পরিক যোগাযোগ বর্তমানে রেকর্ড পর্যায়ে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।জরুরি ক্রয় প্রক্রিয়ার আওতায় জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে একটি লেটার অব অফার অ্যান্ড অ্যাকসেপ্ট্যান্স (LOA) স্বাক্ষর করেছে।প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও তার মার্কিন সমপক্ষ পিট হেগসেথ দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদারে ১০ বছরের একটি কাঠামোতে সই করার কয়েক মাস পর এ অগ্রগতির খবর এলো।চুক্তিটি ফরেন মিলিটারি সেলস (FMS) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। এর ফলে প্রচলিত দীর্ঘ ও জটিল ক্রয় প্রক্রিয়া এড়িয়ে চুক্তি সম্পাদনের সুযোগ পাবে সশস্ত্র বাহিনী।তবে জ্যাভলিন কেনার বিষয়ে ভারতের আগ্রহ নতুন নয়। প্রযুক্তি হস্তান্তর ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের মতো বিষয়গুলো একাধিকবার বিশ্বের অন্যতম পরিচিত অ্যান্টি-ট্যাংক অস্ত্রটি কেনার পরিকল্পনাকে আটকে দিয়েছে। ২০১০ সাল থেকেই এ নিয়ে আলোচনা চলছে।জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কী?রেথিয়ন ও লকহিড মার্টিন যৌথভাবে জ্যাভলিন তৈরি করে। এটি একজন ব্যক্তি বহন করতে পারেন এবং ‘ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট’ প্রযুক্তিতে পরিচালিত হয়। অর্থাৎ লক্ষ্যবস্তুতে নিক্ষেপের পর অপারেটরকে ম্যানুয়ালি ক্ষেপণাস্ত্রটি পরিচালনা করতে হয় না।জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার দাম প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার মার্কিন ডলার। উৎক্ষেপণের আগে এর ইনফ্রারেড সিকার ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুর তাপের স্বাক্ষর শনাক্ত ও লক করা হয়।জ্যাভলিনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি ট্যাংকের ওপরের দিক থেকে আঘাত হানতে পারে। ট্যাংকের এই অংশে সাধারণত বর্ম তুলনামূলকভাবে দুর্বল থাকে।যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ট্যাংক ও জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্রের মুখোমুখি অবস্থার কথা বিবেচনা করলে দেখা যায়, একটি যুদ্ধ ট্যাংকের দাম প্রায় ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অন্যদিকে কাঁধে জ্যাভলিন ব্যবস্থা বহনকারী একজন পদাতিক সেনা ১৫ সেকেন্ডেরও কম সময়ে ওই ট্যাংক ধ্বংস করতে পারেন।খরচের দিক থেকেও জ্যাভলিন ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্য। কমান্ড লঞ্চ ইউনিটসহ পুরো জ্যাভলিন সিস্টেমের দাম যে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের জন্য এটি তৈরি, তার তুলনায় অনেক কম। এ কারণেই FGM-148 জ্যাভলিনকে ২১ শতকের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত পদাতিক অস্ত্রগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভারতীয় বাহিনীতে যুক্ত হলে জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা দেশটির অস্ত্রভাণ্ডারে শক্তিশালী সংযোজন হবে বলে মনে করা হচ্ছে, বিশেষ করে গত বছর পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের পর।উন্নতমানের অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড মিসাইলের প্রয়োজনীয়তা ভারতীয় সেনাবাহিনীর মধ্যে ২০০০-এর দশকের শুরুতেই দেখা দেয়। সে সময় সেনাবাহিনী ফরাসি উৎসের পুরোনো Milan-2T এবং সোভিয়েত আমলের 9M113 Konkurs-M ব্যবস্থা ব্যবহার করত। উভয় ব্যবস্থাই নির্ভরযোগ্য হলেও জ্যাভলিনের মতো তৃতীয় প্রজন্মের ATGM-এর তুলনায় সেগুলো সক্ষমতায় পিছিয়ে ছিল।১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীতে জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা যুক্ত হয়। এরপর থেকে এটি কয়েকটি সংস্করণের মাধ্যমে আরও উন্নত হয়েছে।সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত