প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে ডলারনির্ভরতা কমানোর আহ্বান মোজতবা খামেনির
ডেক্স রিপোর্ট। ||
ইরানের অর্থনৈতিক ও জীবনযাত্রার সংকট মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি লেনদেনে মার্কিন ডলারের ব্যবহার ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সরকার সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন এবং অবরোধের মধ্যেও জনগণের প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী রাজাই ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভাদ বাহোনারের স্মরণে প্রতিবছর সরকার সপ্তাহ পালন করা হয়। ১৯৮১ সালের ৩০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বোমা হামলায় তারা নিহত হন।বার্তায় খামেনি রাজাই, সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি, বাহোনার এবং বিভিন্ন সরকারের নিহত কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক ও মন্ত্রীদের স্মরণ করেন। একই সঙ্গে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি প্রায় দুই মেয়াদ ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।সরকারের কর্মরত কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপকদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে খামেনি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের আন্তরিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার কথাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন।তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি শত্রুদের বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও ষড়যন্ত্র, নিষেধাজ্ঞা এবং অবরোধের মধ্যেও তৃতীয় দফার চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ ও পরবর্তী সময়ে জনগণের প্রয়োজনীয় পণ্য এবং বিভিন্ন সেবা নিশ্চিত করা, গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা মেরামত ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসার দাবি রাখে।গত ছয় মাসের যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি আগ্রাসনের সময়ে ইরানের জনগণ নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে উল্লেখ করে খামেনি বলেন, প্রশাসনের বিভিন্ন শাখা থেকে সেবা পাওয়ার অধিকার জনগণের রয়েছে।অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার বিষয়ে তিনি মূল্যস্ফীতির মতো জীবনযাত্রাসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং অর্থনীতিতে ডলারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ধীরে ধীরে কমানোর ওপর জোর দেন।খামেনি বলেন, শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধী অর্থনীতির নীতিগুলোকে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মূল ভিত্তিতে পরিণত করতে হবে।তিনি বলেন, এসব সংকট মোকাবিলার প্রধান উপায় হচ্ছে যতটা সম্ভব অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল হওয়া। দেশে কোনো পণ্যের পর্যাপ্ত উৎপাদন না থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী বিচক্ষণতার সঙ্গে তা আমদানি করতে হবে।যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেই খামেনি এই বার্তা দিয়েছেন। এর আগে সোমবার ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে নতুন অর্থনৈতিক অভিযান শুরু করে।খামেনি বলেন, যুদ্ধ চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে শত্রুপক্ষের কর্মকাণ্ড দেশের ওপর প্রভাব ফেললেও অর্থনীতির বিভিন্ন উপাদান আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা, জনগণ ও বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা গ্রহণ এবং নতুন সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথ তৈরি করা সম্ভব।তিনি বলেন, ইরানের শত্রুরা জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য তাদের অনুসরণ করা এবং তাদের অযৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়াই একমাত্র পথ। তবে ইসলামি বিপ্লবের আগের বহু বছর ধরে ইরান ও এর সম্পদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ পর্যবেক্ষণ করলে এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র পাওয়া যায়।তরুণ মেধাবীদের উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন খামেনি। তাঁর মতে, সময়মতো নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন কাজে লাগানো এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রচলিত পদ্ধতি ও দীর্ঘদিনের অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসা দেশের অগ্রগতিতে কার্যকর পরিবর্তন আনতে পারে।খামেনি বলেন, জনগণের মনোবল ও জাতীয় উদ্দীপনা দুর্বল করে এমন হতাশাজনক বক্তব্য এবং কল্পিত বিভাজন—যেমন যুদ্ধ না আলোচনা, ঐকমত্য না উগ্রতা, সমঝোতা না যুদ্ধংদেহী মনোভাব—অতীতেও ইরানের জনগণের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ক্ষতি করেছে। ভবিষ্যতেও এসবের একই ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।সামাজিক সংহতি ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার কথা জানিয়ে খামেনি জাতীয় ঐক্য অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সরকারের সব কৌশল ও নীতিতে সংস্কৃতি, শিক্ষা ও নৈতিক বিকাশকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন তিনি।এ ছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয় ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, নার্স এবং চিকিৎসকদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান খামেনি। সন্তানদের লালন-পালনের মাধ্যমে দেশের সাংস্কৃতিক ভবিষ্যৎ গঠনে গৃহিণীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সূত্র: প্রেস টিভি
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত