প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
পাইকগাছায় মাদক ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় হামলা-লুটপাটের অভিযোগ
মোঃ হাবিবুল্লাহ গাজী, উপজেলা প্রতিনিধি পাইকগাছা ||
খুলনার পাইকগাছায় মাদক সেবন ও বিক্রি, চাঁদাবাজি এবং জমি জবরদখলের প্রতিবাদ করায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার, পাল্টা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।শনিবার সকালে পাইকগাছা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন উপজেলার আলমতলা গ্রামের নুর ইসলাম জমাদ্দারের ছেলে তনু জমাদ্দার।লিখিত বক্তব্যে তনু জমাদ্দার অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আলমতলা গ্রামের রহমত জমাদ্দার, ইবাদুল গাজী ও টুটুলের নেতৃত্বে বিএনপির নেতা-কর্মী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মামলার আসামিদের নিয়ে এলাকায় মাদকদ্রব্য, ইয়াবা ও ফেনসিডিলের সেবন ও কেনাবেচা, জমি জবরদখল এবং চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে বলেও দাবি করেন তিনি।তনু জমাদ্দারের দাবি, এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করায় তারা তার ওপর ক্ষিপ্ত হন। এর জের ধরে গত ৫ আগস্ট ২০২৬ বুধবার দুপুরে আলমতলা চর মসজিদের পাশে তাদের মুদি দোকানে রহমত জমাদ্দার, ইবাদুল গাজী ও টুটুলের নেতৃত্বে কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান।অভিযোগে হামলাকারীদের মধ্যে আবুল দফাদার, বাদশা, হুসাইন, সুমন, তুহিন, হাবিব, শহিদ, আবু তালেব, আসিফ, শাহামত, বাদশা জমাদ্দার, আব্দুল্লাহ ও নাহিদ আহসানসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়।তনু জমাদ্দার অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে চাল, ডাল, চিনি ও অন্যান্য মালামালসহ প্রায় দেড় লাখ টাকার পণ্য এবং নগদ এক লাখ টাকা নিয়ে যায়। হামলার সময় জীবন বাঁচাতে তিনি তার বাবা নুর ইসলামসহ দৌড়ে স্থানীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন নজরুল ইসলামের বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে হামলাকারীরা ওই বাড়িতেও প্রাচীর টপকে প্রবেশ করে তাদের মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।এরপর তারা নিজ বাড়িতে আশ্রয় নিলে সেখানেও হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন তনু। এতে তার বাবা নুর ইসলাম ও মা নাছিমা বেগম আহত হন বলে সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়।লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, একই দিন বিকেলে আহত নুর ইসলাম ও নাছিমা বেগম পাইকগাছা থানায় মামলা করতে যাওয়ার সময় পৌরসভার সামনে ইবাদুল, রহমত ও টুটুলসহ কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন বলে দাবি করেন তনু জমাদ্দার।তনু জমাদ্দারের অভিযোগ, ঘটনার পর তাদের বিরুদ্ধেও পাল্টা মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে হামলাকারী ও পুলিশের ভয়ে তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলেও সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করেন তিনি।সাংবাদিক সম্মেলনে তনু জমাদ্দার আলমতলা এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার, হয়রানিমূলক ও ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহার এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।তবে সাংবাদিক সম্মেলনে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রহমত জমাদ্দার, ইবাদুল গাজী ও টুটুলের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তদন্ত প্রয়োজন।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত