প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২৫ বছরের তেল চুক্তি হলেও সার্বভৌমত্ব থাকবে অক্ষুণ্ন: রদ্রিগেজ
ডেক্স রিপোর্ট। ||
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২৫ বছর মেয়াদি তেল চুক্তি হলেও ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন থাকবে বলে জানিয়েছেন দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। শনিবার (২৯ আগস্ট) প্রচারিত এক বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।রদ্রিগেজ বলেন, চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদ উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও পরিচালনাগত দক্ষতা কাজে লাগানো হলেও দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ভেনেজুয়েলার কাছেই থাকবে।চুক্তির আওতায় প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলসম্পদ উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি খাত সম্প্রসারণের জন্য আটটি নতুন তেল ব্লক উন্নয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।রদ্রিগেজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া প্রতি ব্যারেল তেলের বিপরীতে প্রায় ১৯ ডলার ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে। এ ব্যবস্থার ফলে বছরে সর্বোচ্চ প্রায় ২০৯ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আয় হতে পারে। তবে প্রকৃত আয় তেলের বাজারমূল্য ও উৎপাদনের পরিমাণের ওপর নির্ভর করবে।ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট বলেন, দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তেলশিল্প পুনর্গঠনের জন্য বিদেশি পুঁজি ও প্রযুক্তির প্রয়োজন রয়েছে। তবে এ সহযোগিতা গ্রহণের পরও দেশের সম্পদের ওপর ভেনেজুয়েলার সার্বভৌম অধিকার অটুট থাকবে।এর আগে শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ভেনেজুয়েলার তেল খাত নিয়ে একটি চুক্তির কথা জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে ভেনেজুয়েলার তেল অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। শেভরনসহ কয়েকটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন অনুসন্ধান ও উৎপাদন চুক্তি করার প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়েছে।তবে তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রাম্প ও রদ্রিগেজের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। ট্রাম্প যেখানে মার্কিন কোম্পানিগুলোর বেশি নিয়ন্ত্রণের কথা বলেছেন, সেখানে রদ্রিগেজ স্পষ্ট করেছেন যে ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব দেশের হাতেই থাকবে।২৫ বছর মেয়াদি চুক্তিতে তেলক্ষেত্র উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো আধুনিকায়নে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত দুর্বলতা দূর করে ভেনেজুয়েলার তেলশিল্পকে পুনরায় সক্রিয় করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে কারাকাস।বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে ভেনেজুয়েলায়। তবে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকট, নিষেধাজ্ঞা ও পুরোনো অবকাঠামোর কারণে দেশটির তেল উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে সেই সক্ষমতা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও চুক্তিটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়লে পশ্চিম গোলার্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তেল সরবরাহের সুযোগ বাড়তে পারে। পাশাপাশি ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি কৌশলেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।তবে চুক্তিটির সম্পূর্ণ আইনি ও আর্থিক কাঠামো এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের ওপর বিদেশি কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণ কতটা থাকবে এবং রাষ্ট্রের অংশগ্রহণের পরিমাণ কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।রদ্রিগেজের সরকার বলছে, বিদেশি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির সহায়তায় তেলশিল্প পুনর্গঠন করা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ভেনেজুয়েলার কাছেই থাকবে। তাঁর বক্তব্যে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর জাতীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।চুক্তিটি কার্যকর হলে তেল উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার সরকারি রাজস্বও বাড়তে পারে। তবে বড় পরিসরের বিনিয়োগ, অবকাঠামো সংস্কার, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি—এসব বিষয় চুক্তির সফল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।দীর্ঘমেয়াদি এই চুক্তি নিয়ে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরেও আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের সমর্থকেরা এটিকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে সমালোচকেরা বিদেশি কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি অংশগ্রহণের ফলে দেশের কৌশলগত সম্পদের ওপর জাতীয় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তুলতে পারেন।তবে রদ্রিগেজ স্পষ্টভাবে বলেছেন, চুক্তির মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি গ্রহণ করা হলেও ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ হবে না।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা ও রয়টার্স
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত