প্রিন্ট এর তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬
কপিলমুনিতে পারিবারিক বিরোধের জেরে মেয়েকে ত্যাজ্য ঘোষণা করলেন পিতা :
মোঃ হাবিবুল্লাহ গাজী, উপজেলা প্রতিনিধি পাইকগাছা ||
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের রেজাকপুর গ্রামে পারিবারিক বিরোধ ও অবাধ্যতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নিজ মেয়েকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেছেন এক পিতা। এ ঘটনায় ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পাইকগাছা নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে একটি এফিডেভিট সম্পাদন করা হয়েছে।এফিডেভিট সূত্রে জানা যায়, রেজাকপুর গ্রামের মো. নূর ইসলাম খাঁর ছেলে মো. মহাসীন খাঁন তার কন্যা ইসরাত জাহান মুন্নিকে ত্যাজ্য ঘোষণা করে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ঘোষণাপত্র দেন। এফিডেভিটটির রেজিস্ট্রি নম্বর ২৮১ এবং তারিখ ৩০ আগস্ট ২০২৬।ঘোষণাপত্রে মহাসীন খাঁন দাবি করেন, তার কন্যার আচরণ ও পারিবারিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে তিনি এর আগে একাধিকবার তাকে সংশোধন ও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছেন। তবে তার দাবি অনুযায়ী, এসব প্রচেষ্টা সফল না হওয়ায় এবং পারিবারিক সম্মান ও সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এফিডেভিটে বলা হয়, ঘোষণার পর থেকে ইসরাত জাহান মুন্নির সঙ্গে পিতা ও পরিবারের কোনো ধরনের সম্পর্ক থাকবে না। ভবিষ্যতে তাকে কন্যা হিসেবে স্বীকার না করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।এছাড়া ঘোষণাপত্রে তার পিতার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তিতে কোনো ধরনের দাবি না থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মৃত্যুর পর ওই সম্পত্তিতে ইসরাত জাহান মুন্নি বা তার কোনো উত্তরাধিকারী ওয়ারিশ হিসেবে দাবি করতে পারবেন না বলেও ঘোষণাপত্রে দাবি করা হয়েছে।ঘোষণাপত্র অনুযায়ী, মহাসীন খাঁন জীবদ্দশায় মেয়ের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা বাক্যালাপ করবেন না। পাশাপাশি, তার অনুমতি ছাড়া বাড়িতে প্রবেশ কিংবা জানমালের ক্ষতি করার কোনো চেষ্টা করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।এফিডেভিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরাত জাহান মুন্নি ভবিষ্যতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার দায়ভার পিতা বা পরিবারের সদস্যরা বহন করবেন না।তবে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে কাউকে ‘ত্যাজ্য’ ঘোষণা করলেই উত্তরাধিকার বা সম্পত্তির আইনগত অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় কি না—এটি পৃথক আইনগত বিষয়। এ ঘোষণাপত্রের আইনগত কার্যকারিতা সংশ্লিষ্ট আইন ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত