প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জামায়াতে যোগ দিলেন বিএনপি নেতা, সাবেক বিচারপতি ও সেনা কর্মকর্তাসহ ৬০৫ জন
স্টাফ রিপোর্টার। ||
বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাবেক বিচারপতি, সেনা কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, কওমি আলেমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৬৫০ জন জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন।মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারা জামায়াতে যোগ দেন। দলের মাসব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াত এ দাওয়াতি সমাবেশের আয়োজন করে।সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি ফুল ও ইসলামিক বই উপহার দিয়ে নতুন সদস্যদের দলে স্বাগত জানান।জামায়াতে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার বংশাল থানা বিএনপির ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব সরকার। সম্প্রতি বিএনপি থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়া ইসহাক সরকারের বড় ভাই তিনি।এ ছাড়া যোগদানকারীদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক বিচারপতি সৈয়দ শাহিদুর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এস এম খালেকুজ্জামান, সাবেক সেনা কর্মকর্তা কর্নেল ফারুক হোসাইন, সাবেক এসপি ওবায়দুল হক, জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ও জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ, নূরানী শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং গেন্ডারিয়া লাল খাঁ সিটি মসজিদের সেক্রেটারি নেয়ামত উল্লাহ।তালিকায় আরও রয়েছেন ব্যবসায়ী আবুল আয়েশ খান, ফিরোজ আলম খান, সিনহা এ খালিদ, হাজি শাহ আলম, আবদুর রাজ্জাক সোহাগ ও হুমায়ন কবির। রয়েছেন বংশাল থানার ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা মুশফিকুর রহমান, ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আলতাব হোসেন, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাবেদ ওমর, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সমাজসেবক মোছলেহ উদ্দিন আহমেদ, আবুল কালাম আজাদ, এনামুল হক আজাদী, আব্দুর রহমান আল হাবিবী, জসিম উদ্দিন (রসুলপুরি), হাসান জামিলসহ আরও অনেকে।সমালোচনা প্রসঙ্গে যা বললেন শফিকুর রহমানসমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি জানা মতো এই সমাজের মানুষের কোনো অকল্যাণ চিন্তা করি না এবং চেষ্টা করি সব সময় মানুষের ক্ষতি থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার। অন্ততপক্ষে কিছুটা হলেও মানুষের উপকার করতে পারি কি না সেই চেষ্টাটা করি। আমাকে নিয়ে কী করা হয় দেখেন না? আমি এতে আত্মতৃপ্তি পাই।’যারা সমালোচনা করেন, তাদের জন্য দোয়া করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বন্ধু, এমন ভাষায় কথা বোলো না যে কথা কেউ তোমার ব্যাপারে বললে তোমার কলিজাটা টুকরা টুকরা হয়ে যায়। তলোয়ারের খোঁচার দাগ থাকে না, মিলিয়ে যায় একসময়। কিন্তু মুখের খোঁচার দাগ, ওটা কখনো যায় না।’কওমি আলেমদের নিয়ে বক্তব্যকওমি আলেমদের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা কওমিকে আলাদা করে দেখি না। আমরা তাদের দ্বীনি খেদমতকে ছোট মনে করি না। তাদের জন্য অন্তর থেকে দোয়া করি। আল্লাহ যেন তাদের খেদমতে আরও বেশি বারাকা দান করেন।’তিনি আরও বলেন, বাতিলের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। কারও কাছে মাথা নত করা হবে না।নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বার্তাজামায়াতের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘চলার পথে বাধা আসবে, সমালোচনা আসবে, গালিগালাজ আসবে, জীবন দেওয়ার প্রয়োজন হবে। বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ চলে যাবে। যাবে, কারণ এটা আমার নয়, আপনার নয়, এটা আল্লাহর দান। আমাদের কাছে আমানত। সেই আমানত দেওয়ার জন্য আল্লাহকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।’
সূত্র: সুখবর
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত