প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাঁধের ২২৫০ ব্লক লুট, কেউ রেখেছেন গোয়ালঘরে; কেউ বানিয়েছেন সিঁড়ি
স্টাফ রিপোর্টার। ||
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ডিঙ্গাপোতা হাওরের চরহাইজদা ফসল রক্ষা বাঁধ থেকে ২ হাজার ২৫০টি ব্লক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব ব্লক কেউ গোয়ালঘর ও মাচার নিচে রেখেছেন, আবার কেউ হাওরে নামার সিঁড়ি তৈরিতে ব্যবহার করেছেন। তবে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হওয়ার খবর পাওয়ার পর এরই মধ্যে ১ হাজার ৫৭৮টি ব্লক ফেরত দেওয়া হয়েছে।গত রবিবার বিকেল থেকে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্লকগুলো বাঁধের নির্ধারিত স্থানে ফিরিয়ে রাখা হয়। যারা ব্লক নিয়ে গিয়েছিলেন, তারাই সেগুলো নির্ধারিত স্থানে পুনরায় বসিয়ে দিচ্ছেন।এর আগে উত্তর বরান্তর বাজারের পাশে চিকাডুবি হাওর এলাকায় বাঁধের ওপরের প্রায় ২৫০ মিটার অংশের ব্লক নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। গত ১৮ আগস্ট সন্ধ্যা থেকে ব্লক সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়। পরদিন স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও উপজেলা প্রশাসনকে জানান। পরে ২৩ আগস্ট পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন মোহনগঞ্জ থানায় এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।পাউবোর নেত্রকোনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ২ হাজার ২৫০টি ব্লক নিয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পাউবোর পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১ হাজার ৫৭৮টি ব্লক ফেরত দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, নিয়ে যাওয়া ব্লকগুলোর কিছু গোয়ালঘরে, কিছু মাচার নিচে এবং কিছু হাওরে নামার সিঁড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে। আবার কেউ কেউ বাড়ির পাশে ঢেউয়ের আঘাত থেকে রক্ষার জন্য ব্লকগুলো রেখেছেন।স্থানীয় বাসিন্দা ও পাউবো নেত্রকোনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চরহাইজদা উপপ্রকল্প ফসল রক্ষা বাঁধটির দৈর্ঘ্য ৬১ কিলোমিটার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ডিঙ্গাপোতা হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের অংশগুলো শক্তিশালী করার প্রকল্পের আওতায় ৪ দশমিক ৭০০ কিলোমিটার বাঁধ ব্লক দিয়ে স্থায়ীভাবে নির্মাণ করা হয়। এ কাজে ব্যয় হয়েছিল ৩৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।ডিঙ্গাপোতা হাওরের প্রায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান এবং পাশের খালিয়াজুরি উপজেলার কয়েকটি হাওরের ফসল বন্যার পানি থেকে রক্ষায় বাঁধটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।বাঁধসংলগ্ন বরান্তর গ্রামের ব্যবসায়ী বজলু মিয়া অভিযোগ করেন, বানিয়াহারী গ্রামের প্রায় ২৫ জন ব্যক্তি নৌকায় করে ব্লক নিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তাদের বাধা দিলে গালাগাল ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে তার মাছের আড়তেও হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলেও জানান বজলু মিয়া।গাগলাজুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফ চৌধুরী বলেন, বানিয়াহারী গ্রামের লোকজন রাতের বেলায় এসব ব্লক নিয়ে গেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তাদের বাড়িঘরেও ব্লক পাওয়া যাচ্ছে। থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও ব্লক নেওয়া বন্ধ হয়নি। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ব্লকগুলো ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেন।জেলা পুলিশের গণমাধ্যম শাখার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম বলেন, ব্লক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে সেগুলো ফেরত আনার উদ্যোগ নিয়েছে। বাকি ব্লকগুলো শুক্রবারের মধ্যে ফেরত আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত