প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আসিফ মাহমুদের জন্য ঢাকা-১০ আসন চেয়ে জামায়াত আমিরকে ড. ইউনূস কল করেছিলেন: রাশেদ খাঁন
স্টাফ রিপোর্টার। ||
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার জন্য ঢাকা-১০ আসন ছেড়ে দিতে জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফোন করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।পোস্টে রাশেদ খাঁন লিখেছেন, আসিফ মাহমুদ কোনো দুর্নীতি করেননি—এমন দাবি করা হলেও জামায়াতের আমির কেন তাকে ঢাকা-১০ আসন ছেড়ে দেননি, তা প্রশ্ন করা উচিত। তিনি আরও দাবি করেন, নাহিদ ইসলাম এ বিষয়ে বিভিন্নজনের কাছে আক্ষেপ করে বলেছেন, অনেক দরকষাকষির পরও জামায়াতের আমির আসিফ মাহমুদের জন্য আসনটি ছাড়েননি।রাশেদ খাঁনের পোস্ট অনুযায়ী, নাহিদ ইসলামের ভাষায় জামায়াতের আমিরের অবস্থান ছিল—আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ বা বিতর্কের দায় জামায়াত নিতে রাজি নয়। এমনকি আসিফ মাহমুদের জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূস জামায়াতের আমিরকে ফোন করলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রয়োজনে আরও দুই-তিনটি আসন ছেড়ে দেওয়া হবে, কিন্তু আসিফ মাহমুদের বিষয়ে তাকে অনুরোধ না করার জন্য।আসনটি জামায়াত ছেড়ে না দেওয়ায় দলটিকে ধন্যবাদও জানান রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, জামায়াতের সমালোচনা করলেও এ বিষয়ে জামায়াতের আমিরের অবস্থানের জন্য তিনি তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন।রাশেদ খাঁন আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের সন্দেহ থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি যাচাই করা যেতে পারে। একই সঙ্গে তিনি সেদিনের সংবাদ সম্মেলনের প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন করেন, সিনিয়র নেতাদের কেউ আসিফ মাহমুদের পাশে ছিলেন না কেন।তার দাবি, এর মূল কারণ হলো আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির বিষয়টি এনসিপির মধ্যে ‘ওপেন সিক্রেট’। তিনি বলেন, এনসিপির অধিকাংশ নেতাকর্মী কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করলেও আসিফ মাহমুদ মাত্র ১৮ মাস উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ‘আলাদিনের চেরাগ’ পেয়েছিলেন।রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেন, দুদকের কোনো কর্মকর্তার বক্তব্যের শব্দের হেরফেরের কারণে আসিফ মাহমুদ দুর্নীতির অভিযোগ থেকে খালাস পেয়ে যান না। তার দাবি, আসিফ মাহমুদ অন্তত একজনকে বড় অঙ্কের অর্থ দিয়েছিলেন, যা তিনি নিজে জানেন। এ বিষয়ে তিনি একজন উপদেষ্টাকে জানালে ওই উপদেষ্টা আক্ষেপ করে বলেন, বেতন থেকে কেউ এত টাকা দিতে পারেন না।আসিফ মাহমুদ ওমরাহ করে এসেছেন উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন বলেন, অল্প বয়সে করা ভুলের জন্য তার দুঃখপ্রকাশ করা উচিত ছিল। এমনটা হলে তিনি অন্তত বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতেন।তবে বিরোধিতার কারণে বিরোধীদলের সবাই আসিফ মাহমুদের পক্ষে অবস্থান নিলেও, তার কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে তিনি সবসময় বলে যাবেন—আসিফ মাহমুদ ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন।
সূত্র: ইত্তেফাক
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত