প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তাবলীগ জামাতের প্রবীণ মুরুব্বী মাওলানা এহসানুল হকের ইন্তেকাল
স্টাফ রিপোর্টার। ||
পাকিস্তানসহ বিশ্বের তাবলীগ জামাতের অন্যতম প্রবীণ মুরুব্বী ও বিশিষ্ট আলেম মাওলানা এহসানুল হক ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। বুধবার তাঁর ইন্তেকালের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের তাবলীগ জামাতের সাথী, আলেম-উলামা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়। তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ আলমী শুরার মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান তাঁর ইন্তেকালের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।হাবিবুল্লাহ রায়হান জানান, মাওলানা এহসানুল হক পাকিস্তানের রায়বেন্ডসহ বিশ্বের তাবলীগ জামাতের আলমী শুরার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন তিনি রায়বেন্ড মারকাজের প্রবীণ মুরুব্বী হিসেবে দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।দীর্ঘ সময় ধরে দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতের মাধ্যমে মানুষের কাছে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার কাজে ভূমিকা রাখেন মাওলানা এহসানুল হক। ইলম শিক্ষা, শিক্ষকতা ও দাওয়াতি মেহনতের পাশাপাশি তাবলীগের প্রবীণ মুরুব্বীদের সান্নিধ্যে থেকে তিনি দীর্ঘদিন দ্বীনি খেদমত করেন।পারিবারিকভাবেও তাবলীগ জামাতের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক ছিল। তিনি পাকিস্তানের তাবলীগ জামাতের আমির বাবু বশির সাহেবের সন্তান। বাবু বশির সাহেব বাংলাদেশের তাবলীগের মেহনতকে এগিয়ে নিতে অনেক ফিকির ও মেহনত করেছেন। জানা যায়, তিনি তাঁর সন্তানকে দ্বীনের কাজের জন্য ওয়াকফ করে দিয়েছিলেন।শিক্ষাজীবনে মাওলানা এহসানুল হক সাহারানপুরের মাজাহিরুল উলুম মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন। সেখানে মাওলানা হারুন সাহেবের সঙ্গে একই সময়ে অধ্যয়ন করেন তিনি। শাইখুল হাদিস মাওলানা মুহাম্মদ জাকারিয়া কান্ধলভী (রহ.)-এর কাছে হাদিস অধ্যয়ন করেন এবং পরবর্তীতে দীর্ঘদিন তাঁর খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন।ছাত্রজীবনেই তাঁর ইলমি ও রুহানি যোগ্যতায় সন্তুষ্ট হয়ে শাইখুল হাদিস মাওলানা মুহাম্মদ জাকারিয়া কান্ধলভী (রহ.) তাঁকে খেলাফত প্রদান করেন। পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর তৎকালীন আলেমদের তাবলীগে সময় দেওয়ার প্রচলিত রীতি অনুসরণ করে তিনি সাত চিল্লার জন্য আল্লাহর রাস্তায় বের হন।তাবলীগের নির্ধারিত সময়ের মেহনত সম্পন্ন করার পর ভারতের নিজামুদ্দিন মারকাজের কাশিফুল উলুম মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেন তিনি। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা যায়, সেখানে মাওলানা হারুন সাহেবের সঙ্গেও শিক্ষকতা করেছেন।মাওলানা ইউসুফ সাহেব (রহ.)-এর ইন্তেকালের পর মাওলানা এহসানুল হক পাকিস্তানের রায়বেন্ড মারকাজে চলে যান। এরপর ইলম শিক্ষা ও দাওয়াতি মেহনতের পাশাপাশি রায়বেন্ড মারকাজের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে তাবলীগের মেহনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)-এর খান্দানের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ ও সুসম্পর্ক ছিল।দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতে মাওলানা এহসানুল হক ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ একজন মুরুব্বী। দীর্ঘ ইলমি জীবন, প্রবীণ আলেম ও মুরুব্বীদের সান্নিধ্য এবং দাওয়াতি মেহনতে অবদানের কারণে তাবলীগের অঙ্গনে তিনি পরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত ছিলেন।তাঁর ইন্তেকালের খবরে পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তাবলীগ জামাতের সাথী, আলেম-উলামা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর ইন্তেকালের মধ্য দিয়ে দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতে একজন প্রবীণ মুরুব্বী ও বিশিষ্ট আলেমকে হারালেন তাঁর দ্বীনি সাথী, অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।আল্লাহ তাআলা মরহুম মাওলানা এহসানুল হকের সব ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন, তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও দ্বীনি সাথীদের সবরে জামীল দান করুন। আমিন।
সূত্র: আমার দেশ
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত