প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চাকরি ছাড়লেন পাকিস্তানে আটক সেই ভারতীয় পাইলট অভিনন্দন
ডেক্স রিপোর্ট। ||
২০১৯ সালে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে হামলা চালানোর সময় ভারতীয় একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর আটক হয়েছিলেন ভারতীয় পাইলট অভিনন্দন বর্তমান। ঘটনার তিন দিন পর মুক্তি পাওয়া সেই অভিনন্দন এবার যুদ্ধবিমান চালানোর পেশা ছেড়ে যাত্রীবাহী বিমানের পাইলট হিসেবে নতুন ক্যারিয়ার শুরু করেছেন। ভারতীয় বিমানবাহিনী থেকে আগাম অবসর নিয়ে তিনি বেসরকারি এয়ারলাইনস ফ্লাই৯১-এ বাণিজ্যিক পাইলট হিসেবে যোগ দিয়েছেন।বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানে হামলার সময় যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর আটক হওয়া অভিনন্দন ভারতীয় বিমানবাহিনী থেকে নির্ধারিত সময়ের আগেই অবসর নিয়েছেন। এরপর একটি বেসরকারি বিমান সংস্থায় বাণিজ্যিক পাইলট হিসেবে নতুন কর্মজীবন শুরু করেন তিনি।বিমানবাহিনীতে অভিনন্দনের কর্মজীবন ছিল ২২ বছরের। তবে ২০১৯ সালে পাকিস্তানের হাতে আটক হওয়ার পর তিনি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসেন।পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত আগস্টে গোয়াভিত্তিক আঞ্চলিক এয়ারলাইন ফ্লাই৯১-এ সাধারণ পাইলট হিসেবে যোগ দেন অভিনন্দন।তবে এ বিষয়ে অভিনন্দন নিজে এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য দেননি। এ বিষয়ে পিটিআই ফ্লাই৯১-এর মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।এয়ারলাইনটির এক মুখপাত্র জানান, তাদের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত তথ্য তারা প্রকাশ করেন না।২০২৪ সালের মার্চে ফ্লাই৯১ তাদের বিমান চলাচল কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে এটিআর ৭২-৬০০ মডেলের ছয়টি বিমান দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতশাসিত কাশ্মিরের পুলওয়ামায় ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর একটি গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলা হয়। এতে অন্তত ৪২ জন জওয়ান নিহত হন। এই হামলার জন্য ভারত পাকিস্তানভিত্তিক একটি সংগঠনকে দায়ী করে।পুলওয়ামা হামলার প্রতিশোধ হিসেবে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে হামলা চালায় ভারত। ভারতের দাবি ছিল, ওই হামলায় অন্তত ৩০০ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়, এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, শুধু কয়েকটি গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।পুলওয়ামা হামলার ১২ দিন পর মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে পাকিস্তানের বালাকোটে আকাশপথে হামলা চালায় ভারতীয় বিমানবাহিনী। এর পর পাকিস্তানও আকাশপথে ভারতকে আক্রমণ করে। এ সময় পাকিস্তানের এফ-১৬ বিমান ভারতীয় একটি যুদ্ধবিমানকে ধাওয়া করে গুলি করে ভূপাতিত করে। পরে ওই বিমানের পাইলট উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে আটক করে পাকিস্তানি বাহিনী।ভারতীয় বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় জড়িত দুই পাকিস্তানি পাইলট ছিলেন উইং কমান্ডার নোমান আলী খান ও গ্রুপ ক্যাপ্টেন ফাহিম আহমেদ খান। তাদের মধ্যে উইং কমান্ডার নোমান আলী খানকে সিতারা-ই-জুরাত (বীরত্বের তারকা) এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন ফাহিম আহমেদ খান ও স্কয়ার লেডার হাসান মাহমুদ সিদ্দিকীকে তমঘা-ই-জুরাত (বীরত্বের পদক) দেওয়া হয়।ভারতের ‘বালাকোট স্ট্রাইক’-এর পাল্টা জবাব হিসেবে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর হামলা চালানোর ঘটনা পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত ভারত ও পাকিস্তানকে যুদ্ধের কাছাকাছি নিয়ে যায়। ভারতীয় সামরিক বিমান পাকিস্তানশাসিত আজাদ কাশ্মিরের মুজাফফরাবাদ সেক্টরের কাছাকাছি নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) অতিক্রম করার পরই মূলত এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়।ওই বছরের শেষদিকে অভিনন্দনকে বীরচক্র পুরস্কারে ভূষিত করে ভারত সরকার। যুদ্ধকালীন সামরিক দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার এটি।
সূত্র: ইত্তেফাক
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত