প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মাভাবিপ্রবিতে ভিডিও ছড়ানোকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ২
স্টাফ রিপোর্টার। ||
টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীর আপত্তিকর অবস্থার ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিপিএস ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন।ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গত ১ সেপ্টেম্বর বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি হয়। সংঘর্ষ এড়াতে ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে লিখিত সমঝোতা হলেও বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও উত্তেজনা ও সংঘাতের সৃষ্টি হয়।জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে অন্য এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে মারুফ নামে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী ভিডিও ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেদিনই প্রক্টর কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিপিএস (ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স) বিভাগের শিক্ষার্থী, সাংবাদিক প্রতিনিধি এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ আলোচনার পর উপস্থিত সবাই একটি সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর করেন এবং বিষয়টির স্থায়ী নিষ্পত্তিতে সম্মত হন।তবে ওই লিখিত সমঝোতার পরও বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে ক্যাম্পাসে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়। সিপিএস বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভিডিওটি অন্য একটি পেজে পুনরায় ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি সামনে আসার পর তারা মারুফের ফোন আবারও নিয়ে নেন।পরে ফোনটি উদ্ধারের বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সিপিএস ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা মুখোমুখি অবস্থানে চলে যান। এরপর শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ বাধা দিতে গেলে তার মাথায় আঘাত করা হয়। পরে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনাটি সংঘর্ষে রূপ নেয়।সংঘর্ষে মেকানিক্যাল বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ এবং পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ইশতিয়াক আহমেদ গুরুতর আহত হন। পরে তাদের টাঙ্গাইল জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয় বলে জানা গেছে।এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ বলেন, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি তারা পর্যবেক্ষণ করছেন। ইতোমধ্যে পরিসংখ্যান বিভাগের দুজন শিক্ষক আহতদের দেখতে গেছেন। বিষয়টি নিয়ে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বৈঠকে বসা হবে এবং ঘটনাটি আবারও খতিয়ে দেখা হবে।তিনি বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার পর আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান কিংবা শাস্তির বিষয়ে জানানো সম্ভব হবে। সমঝোতায় পৌঁছানোর পরও একই ধরনের ঘটনা আবার ঘটায় তিনি এটিকে ন্যক্কারজনক বলে উল্লেখ করেন।
সূত্র: যুগান্তর
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত