প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সিফাতকে গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তাসনিম জারা
স্টাফ রিপোর্টার। ||
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের পর কলেজছাত্র সিফাত আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা। এ বিষয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘দ্য ডিক্টেটর’-এর কাল্পনিক শাসক আলাদিনের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেছেন।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তাসনিম জারা বলেন, সিফাতের ব্যবহৃত ভাষা শালীন ছিল না—এ নিয়ে বিতর্কের তেমন সুযোগ নেই। তবে তাকে অভদ্রতার অভিযোগে নয়, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—এটাই মূল প্রশ্ন বলে উল্লেখ করেন তিনি।পোস্টে তিনি লেখেন, “সিফাতের ভাষা ভদ্র ছিল না, এটা সত্য। কিন্তু তাকে তো অভদ্রতার জন্য গ্রেপ্তার করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। তাহলে গালি দেওয়া কি সন্ত্রাস?”সিফাতের গ্রেপ্তারকে যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থন করছেন, তাদের অনেকের মন্তব্যেও আক্রমণাত্মক ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তাসনিম জারা। তার মতে, এতে দ্বৈত মানদণ্ডের বিষয়টি সামনে এসেছে।তিনি আরও লেখেন, “একটা তালিকা করে দিন—কী লিখলে, কী আঁকলে বা বিদ্যুতের বিল হাতে নিয়ে কী বললে রাত সাড়ে আটটায় দরজায় পুলিশ আসবে না। লিখে দিন, আমরা মেনে চলব।”এরপর ‘দ্য ডিক্টেটর’ চলচ্চিত্রের চরিত্র আলাদিনের শাসনব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করে কটাক্ষ করেন তিনি। তার বক্তব্য, এমন কোনো তালিকা দিতে যদি সংশ্লিষ্টদের অস্বস্তি হয়, তাহলে তাদের নিজেদের অবস্থান নিয়েও চিন্তা করা উচিত।পোস্টে সিফাতকে দ্রুত মুক্তি দেওয়া এবং তার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তাসনিম জারা। পাশাপাশি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের যেসব ধারা মতপ্রকাশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার সুযোগ সৃষ্টি করে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন, সেগুলো সংশোধনেরও আহ্বান জানান।উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গাজীপুর মহানগরীর গাছা এলাকার বাসা থেকে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী সিফাত আব্দুল্লাহকে আটক করে পুলিশ। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে ফেসবুকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্দেশে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় বক্তব্য দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে আটক করে। তবে তাকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কোন আইনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যে কয়েক দফা পরিবর্তন দেখা যায়।প্রথমদিকে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগের কথা বলা হয়। এরপর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে মামলা হওয়ার কথা জানানো হলেও পরে বলা হয়, নতুন কোনো মামলায় নয়; আগের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।এদিকে শুক্রবার পুলিশের পক্ষ থেকে সিফাতের আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও করা হয়। বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়ায় সিফাতের গ্রেপ্তারের প্রকৃত কারণ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
সূত্র: বিডি লাইভ ২৪
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত