প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যাদের মেম্বার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারাই নাহিদ-হাসনাতকে টোকাই বলত’
স্টাফ রিপোর্টার। ||
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সদস্যসচিব জোবাইরুল আলম মানিক বলেছেন, নির্বাচনের আগে ৪০ থেকে ৪৫ বছর বয়সী অনেক ব্যক্তি নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহকে ‘টোকাই’ বলে কটূক্তি করতেন। অথচ তাদের নিজেদেরই জনপ্রতিনিধি হওয়ার মতো যোগ্যতা ছিল না। বর্তমানে সেই তরুণরাই সংসদে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলায় এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন উপলক্ষে আয়োজিত সমন্বয় সভা ও যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জোবাইরুল আলম মানিক। আনোয়ারা উপজেলা এনসিপির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব রিদুওয়ানুল করিম হৃদয়।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রকৌশলী কাইয়ুমুল ইসলাম, চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাঈদ মোহাম্মদ ইফতিখার, দক্ষিণ জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিকুর রহমান চৌধুরী মিশকাত এবং যুগ্ম সদস্যসচিব জিয়াউর করিম।জোবাইরুল আলম বলেন, ৪০ থেকে ৪৫ বছর বয়সী এমন কিছু মানুষ, যারা জীবনে মেম্বার হওয়ার যোগ্যতাও অর্জন করতে পারেননি, তারাই নির্বাচনের আগে নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহকে কটূক্তি করে ‘টোকাই’ বলে সম্বোধন করতেন। কিন্তু বর্তমানে তরুণরাই সংসদে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাদের কর্মকাণ্ডই সমালোচকদের জবাব দিয়েছে।তিনি বলেন, স্বৈরাচারের পতনের পর অনেকেই তরুণদের আবার পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার কথা বলছেন। কিন্তু ছাত্রদের টেবিলে ফিরিয়ে দিয়ে নতুন করে স্বৈরাচার তৈরির সুযোগ আর দেওয়া হবে না। শেখ হাসিনার মতো ফ্যাসিস্টকে ছাত্র-জনতা বিতাড়িত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন কোনো ফ্যাসিবাদের জন্যও দেশে জায়গা তৈরি হতে দেওয়া হবে না।আনোয়ারা ও কর্ণফুলীতে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিবারতন্ত্রের চর্চা চলছে বলেও দাবি করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, জন্মের পর থেকেই দেখছেন, দুটি নির্দিষ্ট পরিবার আনোয়ারা ও কর্ণফুলীকে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ওই দুই পরিবারের বাইরে গিয়ে অন্য কেউ নেতৃত্ব দেওয়ার সাহস পেত না।তিনি আরও বলেন, ৩০ থেকে ৪০ বছর ধরে যারা বাবার পেছনে রাজনীতি করেছেন, শেষ পর্যন্ত তাদের সেই বাবার ছেলের পেছনেও রাজনীতি করতে হচ্ছে। এনসিপি এ ধরনের পরিবারতন্ত্রের অবসান চায়। যোগ্যতা থাকলে একজন কৃষকের সন্তানও সংসদ সদস্য কিংবা প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন।সামনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে জোবাইরুল আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তরুণরা প্রার্থী হবে। কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার কিংবা কেন্দ্র দখলের চিন্তা থাকলে তা বাদ দিতে হবে। একজন এএসপি দায়িত্বে থাকলেও কেন্দ্র দখল করে ভোট নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।অনুষ্ঠানে আনোয়ারার জে কে এস উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলামসহ দুই শতাধিক কিশোর ও যুবক এনসিপি এবং জাতীয় ছাত্রশক্তিতে যোগ দেন।সভায় দক্ষিণ জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন ও সিফাত চৌধুরী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আকাশ নূর, এ কে এম মুরশেদ ও শাহেদুল ইসলাম শাহেদ, দপ্তর সম্পাদক ইরফান মাহমুদ আল সাইদ, সহদপ্তর সম্পাদক জহির উদ্দিন চৌধুরী হিমেল, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মো. শাহেদুল আলম, নারীবিষয়ক সম্পাদক ডালিয়া বড়ুয়া এবং সহ-নারীবিষয়ক সম্পাদক জোবাইদা হক তানজুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: ঢাকা পোস্ট
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত