প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, তবুও নেই অনলাইন ব্যাংকিং টাকা জমায় দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি
ওমর ফারুক , ক্যাম্পাস প্রতিনিধি ||
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ফি পরিশোধে এখনো চালু হয়নি পূর্ণাঙ্গ অনলাইন পেমেন্ট বা ক্যাশলেস ব্যাংকিং ব্যবস্থা। ফলে নির্ধারিত ফি জমা দিতে শিক্ষার্থীদের সরাসরি ব্যাংকে গিয়ে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। এতে সময় অপচয়ের পাশাপাশি নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা।শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ফি জমা দেওয়ার জন্য ব্যাংকে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হয়। একই সঙ্গে হল, বিভাগ ও ব্যাংকের মধ্যে একাধিকবার যাতায়াত করতে হয়। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটছে। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফি জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।শিক্ষার্থীরা জানান, অনেক সময় আর্থিক ব্যবস্থাপনার কারণে নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে ফি জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নেন তারা। কিন্তু ব্যাংকে দীর্ঘ লাইন ও নির্দিষ্ট ব্যাংকিং সময়ের কারণে সময়মতো টাকা জমা দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত জরিমানা দিয়ে ফি পরিশোধ করতে হয়।ফলিত গণিত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মঞ্জিল ভূঁইয়া বলেন, “আমাদের একাডেমিক কার্যক্রমকে পাশ কাটিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হয়। ফলে আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ২০২৬ সালে এসেও আমরা ১৯০০ সালের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা দিচ্ছি, যা আমাদের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক বিষয়। দ্রুত এ সমস্যা নিরসনে কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সামিয়া ইসলাম বলেন, “বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও নোবিপ্রবিতে এখনো ক্যাশলেস ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু হয়নি, যা শিক্ষার্থীদের জন্য হতাশাজনক ও সময়সাপেক্ষ। ফি জমা দিতে হল ও বিভাগে যাতায়াতের পাশাপাশি ব্যাংকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফি জমা দিতে না পারায় জরিমানাও দিতে হয়। অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু হলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই যেকোনো সময় ফি জমা দেওয়া সম্ভব হবে। এতে শিক্ষার্থীদের সময় ও ভোগান্তি কমার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় জরিমানাও এড়ানো যাবে।”শিক্ষার্থীদের মতে, বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু হলেও অর্থ পরিশোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি কার্যক্রমে এখনো সরাসরি ব্যাংকনির্ভরতা সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু হলে শিক্ষার্থীরা ঘরে বা হল থেকেই নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে পারবেন। এতে ব্যাংকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তা কমার পাশাপাশি অর্থ পরিশোধ প্রক্রিয়ায় সময় ও শ্রমও সাশ্রয় হবে।এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, “আমি যোগদানের পর শিক্ষার্থীদের পেমেন্টগুলো ক্যাশলেস করার কমিটমেন্ট করেছিলাম। এখনো তা বাস্তবায়ন করতে না পারলেও ইউসিবি ব্যাংকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের একটি সফটওয়্যার প্রস্তুত আছে। পাশাপাশি আমাদের আইসিটি সেলেরও একটি সফটওয়্যার রয়েছে। দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের জন্য যেটি বেশি উপযোগী, সেটি দ্রুত চালুর ব্যবস্থা করব। আমার প্রথম লক্ষ্য হলো, শিক্ষার্থীদের পেমেন্ট ব্যবস্থা দ্রুত ক্যাশলেস করা।”বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগের কথা জানানো হলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে আপাতত প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমেই ফি পরিশোধ করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত অনলাইন পেমেন্ট বা ক্যাশলেস ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। এতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তি কমার পাশাপাশি একাডেমিক সময়ের অপচয়ও রোধ করা সম্ভব হবে।এখন দেখার বিষয়, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়। দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের ঘোষিত উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত