প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোটেল সংকটে কলকাতার রাস্তায় রাত কাটাচ্ছেন বাংলাদেশি রোগীরা
ডেক্স রিপোর্ট। ||
কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ঘটনার পরও পুরো এলাকার পরিস্থিতি এখনো থমথমে। চিকিৎসা ও ব্যবসার প্রয়োজনে সেখানে অবস্থান করছেন অনেক বাংলাদেশি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় তাদের দুর্ভোগ দিন দিন আরও বাড়ছে।নিউমার্কেট এলাকার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশি রোগী ও তাদের স্বজনরা। অনেক ক্যান্সার রোগীকে সঙ্গে নিয়ে স্বজনদের কলকাতার ফুটপাতেই রাত কাটাতে হচ্ছে। শুধু বাংলাদেশিরাই নন, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা থেকে চিকিৎসা বা অন্যান্য প্রয়োজনে আসা মানুষজনও একই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। বাধ্য হয়ে তাদেরও খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হচ্ছে।গত ১৮ আগস্ট মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে সাতজন বাংলাদেশি ও দুজন ভারতীয় নিহত হন। এ ঘটনার পর প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নেয়। কলকাতা পুরসভা শহরের ৭০০টির বেশি হোটেল ও গেস্টহাউসকে নোটিশ দিয়েছে। নিয়ম না মানার কারণে এসব হোটেল খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে নতুন অতিথি রাখার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ফলে দুই বাংলার বহু মানুষ থাকার জায়গা নিয়ে সংকটে পড়েছেন।গত কয়েক দিন ধরে ঠাকুরপুকুর ক্যান্সার হাসপাতাল এলাকায় রোগী ও তাদের স্বজনদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বৃষ্টির মধ্যেও অনেককে লাগেজ নিয়ে রাস্তার পাশে রাত কাটাতে দেখা যাচ্ছে।হোটেলে জায়গা না পেয়ে চরম হতাশায় পড়েছেন বাংলাদেশিরা। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। ঢাকার এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হোটেল মালিকরা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন। তিনি আর কখনো কলকাতায় আসবেন না বলেও জানান।এক রোগীর স্বজন বলেন, ক্যান্সার একটি জটিল রোগ। কেমোথেরাপি নেওয়া রোগীদের হাসপাতালের কাছাকাছি থাকা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বর্তমানে হোটেল না পাওয়ায় তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।আরেক বাংলাদেশি জানান, তারা যথাযথ নিয়ম মেনে ভিসা ও ট্যাক্স পরিশোধ করে কলকাতায় এসেছেন। কলকাতায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তাদের আগেই বিষয়টি জানানো উচিত ছিল। এক নারী জানান, তার রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, অথচ তাকে থাকার জায়গার জন্য রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে হচ্ছে। এলাকায় শৌচাগারের ব্যবস্থা না থাকায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।আরেক বাংলাদেশি অভিযোগ করেন, তাকে হঠাৎ করে হোটেল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় থানায় জানিয়েও কোনো সহযোগিতা পাননি। রোগীকে রেখে দেশে ফিরে যাওয়াও তার পক্ষে সম্ভব নয়।ঠাকুরপুকুর হাসপাতালে তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসা করা যায়। আশপাশের গেস্টহাউসগুলোর ভাড়াও অপেক্ষাকৃত কম। কিন্তু সেসব জায়গা থেকেও রোগী ও স্বজনদের বের করে দেওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন। প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ হাজার রুপি খরচ করে বড় হোটেলে থাকা অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়।ঠাকুরপুকুরের এক গেস্টহাউস মালিক জয়ন্ত সাউ জানান, ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মুমূর্ষু রোগীদের থাকার জায়গা দিতে পারছেন না তারা। তার মতে, ঘূর্ণিঝড়ের সময় যেভাবে মানুষকে সরিয়ে ত্রাণশিবিরে রাখা হয়, এখানেও সরকারের পক্ষ থেকে তেমন অস্থায়ী থাকার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।এরই মধ্যে মানবিক সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে ঠাকুরপুকুর ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টার। জায়গা সীমিত হলেও তারা সর্বোচ্চ ৫৫ জনের হাসপাতালের ভেতরে থাকার ব্যবস্থা করেছে। তবে ভারত ও বাংলাদেশের আরও শতাধিক মানুষ এখনো রাস্তায় দিন কাটাচ্ছেন। তারা রোগীকে নিয়ে দেশে ফিরতে পারছেন না, আবার থাকার জন্য কোনো হোটেলও পাচ্ছেন না।নিউমার্কেটের ঘটনার পর প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপের কারণে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা এসব অসহায় মানুষের দুর্ভোগ এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত