প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আগ্নেয় ছাইয়ে ঢেকেছে ইন্দোনেশিয়ার আকাশ, ব্যাহত ৩০১ ফ্লাইট
ডেক্স রিপোর্ট। ||
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার কাছাকাছি ‘আনাক ক্রাকাতাউ’ আগ্নেয়গিরি থেকে বিপুল পরিমাণ ছাই নির্গত হওয়ায় দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আগ্নেয় ছাইয়ে আকাশ ঢেকে যাওয়ায় বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন শত শত যাত্রী।রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত জাকার্তার সোকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। আগ্নেয়গিরিটি বিমানবন্দর থেকে ১৫০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত। বিমানবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আংকাসা পুরা জানিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে মোট ৩০১টি ফ্লাইটের ওপর প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ছিল ৫৮টি।এদিকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস জাকার্তাগামী এবং জাকার্তা থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকা সব ফ্লাইট দিনের বাকি সময়ের জন্য বাতিল করেছে। আগ্নেয় ছাই উড়োজাহাজের জেট ইঞ্জিনে গুরুতর ক্ষতি করতে পারে। একই সঙ্গে এটি পাইলটদের দৃষ্টিসীমাও কমিয়ে দেয়। এসব ঝুঁকির কারণে ইন্দোনেশিয়ার একাধিক বিমানবন্দরে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।পরিবহণমন্ত্রী দুডি পুরওয়াগান্ধি জানান, সোকার্নো-হাত্তা বিমানবন্দর ছাড়াও আরও ছয়টি বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বান্দুংয়ের হুসেইন সাস্ত্রানেগারা বিমানবন্দর এবং সুমাত্রার বান্দার লাম্পুংয়ের কাছে অবস্থিত রাদিন ইনতেন-২ বিমানবন্দর। এছাড়া সেমারাং ও সুরাবায়াসহ কয়েকটি শহরের বিমানবন্দরকে বিকল্প অবতরণের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।তবে আগ্নেয় ছাইয়ের প্রভাব কেবল বিমান চলাচলেই সীমিত থাকেনি। চোখ ও শ্বাসতন্ত্রে অস্বস্তির কারণে কয়েকটি স্কুলের নির্ধারিত কার্যক্রম বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।শুক্রবার গভীর রাতে আনাক ক্রাকাতাউয়ে নতুন করে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা বিএমকেজ জানিয়েছে, অগ্ন্যুৎপাতের সময় বিকট শব্দ সৃষ্টি হয়। ওই শব্দ আগ্নেয়গিরি থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত শোনা গেছে।জাভা দ্বীপের দিকে আগ্নেয় ছাই প্রায় ৬ হাজার মিটার উচ্চতা পর্যন্ত উঠেছে। অন্যদিকে সুমাত্রা ও জাভার বানতেন প্রদেশের কয়েকটি এলাকায় ছাইয়ের স্তম্ভ ১৫ হাজার মিটার পর্যন্ত উচ্চতায় পৌঁছেছে। রোববার আরও দুটি অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনাও রেকর্ড করা হয়েছে।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবি জানিয়েছে, এই অগ্ন্যুৎপাতের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই। দ্রুত ছাই সরিয়ে ফেলতে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।বিএনপিবির প্রধান সুহারইয়ান্তো বলেন, পর্যাপ্ত পরিমাণ ভারী বৃষ্টি হলে আগ্নেয় ছাই ধুয়ে যাবে। এতে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে তৈরি হওয়া সমস্যাও কমে আসবে।আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরিটি ১৯২০-এর দশকে সমুদ্রের বুক থেকে জেগে ওঠে। ১৮৮৩ সালের ভয়াবহ ক্রাকাতাউ অগ্ন্যুৎপাতের পর তৈরি হওয়া বিশাল ক্যালডেরার মধ্য থেকেই এর সৃষ্টি। ওই অগ্ন্যুৎপাত নথিভুক্ত ইতিহাসের অন্যতম প্রাণঘাতী আগ্নেয়গিরির ঘটনা হিসেবে পরিচিত। পরবর্তী সময়েও সেখানে কয়েক দফা অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে।২০১৮ সালে আগ্নেয়গিরিটির একটি অংশ ধসে পড়ে। এর ফলে সৃষ্ট সুনামিতে জাভা ও সুমাত্রার উপকূলীয় এলাকায় ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।
সূত্র: ইত্তেফাক
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত