প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মালয়েশিয়ায় প্রবাসী শ্রমিকদের আবাসনের ঠিকানা নিবন্ধন বাধ্যতামূলক
ডেক্স রিপোর্ট। ||
মালয়েশিয়ায় কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের আবাসনের ঠিকানা এখন থেকে ফোমেমা সিস্টেমে নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে এ নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় নিয়োগকর্তাদের ওপর বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে কর্মীরা কোথায় বসবাস করছেন, সেই তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়।ফোমেমার ওয়েবসাইটে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রত্যেক বিদেশি কর্মীর যাচাই করা আবাসিক ঠিকানা সিস্টেমে যুক্ত করতে হবে। ঠিকানা যাচাই বা আপডেট না করা হলে স্বাস্থ্য পরীক্ষার নিবন্ধন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না। কর্মীর বর্তমান ঠিকানা সঠিক আছে কি না, তা নিয়োগকর্তা ও প্যানেল এজেন্সিকে নিশ্চিত করতে হবে। কোনো কর্মী আগের ঠিকানা ছেড়ে নতুন স্থানে চলে গেলে প্রথমে নতুন ঠিকানা হালনাগাদ করতে হবে। এরপরই নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় ‘সেভ’ করার সুযোগ থাকবে।এর আগে কাগজপত্রে ঠিকানা উল্লেখ করেই দায়িত্ব শেষ করার সুযোগ ছিল। নতুন নিয়মে সেই ব্যবস্থা থাকছে না। কর্মী বাস্তবে কোথায় বসবাস করছেন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। ভুল অথবা পুরোনো ঠিকানা ব্যবহার করা হলে স্বাস্থ্য পরীক্ষার নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় সমস্যা হতে পারে।ফোমেমা জানিয়েছে, বিদেশি কর্মীদের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ রাখা এবং প্রয়োজনের সময় তাদের দ্রুত শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন রয়েছে। অনেক শ্রমিক নিয়োগকর্তার নির্ধারিত আবাসনের বাইরে বসবাস করেন। কেউ কর্মস্থল পরিবর্তন করেন, আবার কেউ সাবকন্ট্রাক্টরের অধীনে কাজ করেন। বৈধ ওয়ার্ক পারমিট থাকার পরও অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করার ঘটনাও বিভিন্ন অভিযানে সামনে এসেছে। এসব পরিস্থিতিতে কর্মীর প্রকৃত অবস্থান ও কর্মস্থল সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের কাছে সঠিক তথ্য রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।নতুন নিয়মের মাধ্যমে এই ধরনের তথ্যগত ঘাটতি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোনো বিদেশি শ্রমিক কোথায় বসবাস করছেন, সেই তথ্য সঠিক রাখার দায়িত্ব সরাসরি নিয়োগকর্তার ওপর বর্তাবে।ফোমেমা মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ করা একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি বিদেশি কর্মীদের বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনা করে। মালয়েশিয়ায় প্রবেশের পর প্রত্যেক বিদেশি কর্মীকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফোমেমায় নিবন্ধন করতে হয়। এরপর অনুমোদিত প্যানেল ক্লিনিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হয়।৭ সেপ্টেম্বর থেকে নিবন্ধন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আবাসনের ঠিকানা যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে কোনো কর্মী বসবাসের স্থান পরিবর্তন করলেও পুরোনো ঠিকানা ব্যবহার করে বিষয়টি গোপন রাখার সুযোগ কমবে।বিশেষ করে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য এই নিয়মটি গুরুত্বপূর্ণ। মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। আবাসন পরিবর্তন হলে নিয়োগকর্তা অথবা সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে দ্রুত তথ্য সংশোধন করতে হবে। তা না হলে স্বাস্থ্য পরীক্ষার নিবন্ধন আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে।ফোমেমা স্পষ্ট জানিয়েছে, আবাসনের ঠিকানা নিশ্চিত অথবা হালনাগাদ না হওয়া পর্যন্ত কোনো নিবন্ধন সম্পন্ন করা যাবে না। নতুন ব্যবস্থার ফলে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি বিদেশি শ্রমিকরা কোথায় অবস্থান করছেন, তার একটি ডিজিটাল রেকর্ডও তৈরি হবে। এখন থেকে এই তথ্য সঠিক ও হালনাগাদ রাখার প্রধান দায়িত্ব নিয়োগকর্তা এবং প্যানেল এজেন্সির ওপর থাকবে।
সূত্র: ইত্তেফাক
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত