প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চিকিৎসক-রোগী উভয়ের নিরাপত্তাই সরকারের অগ্রাধিকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
ইনসাফ টাইমস নিউজ ডেক্স ||
চিকিৎসক ও রোগী—উভয়ের নিরাপত্তাই সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সচেতন ও সক্রিয় রয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ আয়োজিত ৪৮তম (বিশেষ) বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে নবনিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের যোগদান ও ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।নবনিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের উদ্দেশে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসক হিসেবে গুরুদায়িত্ব নিয়ে তাদের দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করতে হবে। চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকার রক্ষা করাও সরকারের দায়িত্ব।চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পাঁচ হাজার আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।তবে শুধু নিরাপত্তা জোরদার করলেই হবে না, স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক পরিবেশ ও মান উন্নয়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী।তিনি বলেন, চিকিৎসাসেবার গুণগত মান বাড়ানো, হাসপাতালের পরিবেশ উন্নত করা এবং রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও আক্ষেপ অনেকটাই কমে আসবে। মানুষের অসন্তোষের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করতে পারলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিও কমানো সম্ভব হবে।স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার ও সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে ডা. এম এ মুহিত বলেন, সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ বিনির্মাণে নির্বাচনী ইশতেহারে ২০টি সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে। চিকিৎসকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।তিনি আরও বলেন, সরকার একটি দুর্নীতি, অনিয়ম ও দালালনির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থা পেয়েছে। বাস্তবতার ওপর দাঁড়িয়েই এ ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আমূল পরিবর্তন আনতে হবে।নবীন বিসিএস কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়া কোনো চূড়ান্ত গন্তব্য নয়; বরং এটি দীর্ঘ কর্মজীবনের সূচনামাত্র।চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নবীন চিকিৎসকেরা একই সঙ্গে চিকিৎসক ও সরকারের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা। তাই চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাশাপাশি সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়া, ই-টেন্ডারিং ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও শুরু থেকেই জ্ঞান অর্জন করতে হবে। মাঠপর্যায়ে উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার মানসিকতাও গড়ে তুলতে হবে।ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রসঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর ও গবেষণামুখী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার আধুনিক ‘ডিজিটাল হেলথ’ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। আগামী কয়েক দশক জনগণকে আধুনিক ও নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দিতে এই নতুন ব্যবস্থার নেতৃত্ব নবীন চিকিৎসকদেরই দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. এ এন এম বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত