প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থাকতেই ১১ দলের লংমার্চ: বিশ্লেষক
স্টাফ রিপোর্টার। ||
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চকে রাজনীতির মাঠে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজেদের আলোচনায় রাখতে মূলত এই কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার জন্য বিএনপিকেও পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, রাজপথের কর্মসূচির পরিবর্তে বিএনপি বর্তমানে অন্যান্য কার্যক্রমে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। লংমার্চে বিরোধী দলের নেতারা বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকর করতে সরকারকে বাধ্য করা হবে।বিরোধীদের ঘোষিত এই এক দফা কর্মসূচিকেও রাজনীতির মাঠে টিকে থাকার কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক আলোচনায় নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতেই বিরোধীরা এ ধরনের কর্মসূচি নিয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপিকেও মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবর রহমান বলেন, তাঁর কাছে এটিকে লং রাইড বা লং মার্চ—কোনোটিই মনে হচ্ছে না। তাঁর মতে, বর্তমানে রাজনীতিতে তেমন কোনো কর্মসূচি নেই। বিরোধী দলগুলোর রাজনীতিতে টিকে থাকার বিষয়টি অনেকেই খেয়াল করছেন না। পাঁচ বছর পরপর ক্ষমতার পরিবর্তনের যে ব্যবস্থা বা ‘রুলস অব গেম’ রয়েছে, সেটিকে যথাযথভাবে অনুসরণ না করার বিষয়টিও এখানে দেখা যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।কোনো কোনো বিশ্লেষকের মতে, সংসদে বিরোধী দল যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না। এ কারণে নিজেদের দাবি আদায় এবং সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে তারা রাজপথে কর্মসূচি পালন করছে। তাঁদের মতে, এ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের প্রতি এক ধরনের রাজনৈতিক বার্তাও দেওয়া হচ্ছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, সরকারের ওপর চাপ তৈরি করা এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়গুলো সংসদের ভেতরেই হওয়ার কথা। তবে যখন দেখা যায় সরকার বিরোধী দলের কোনো কথাই শুনছে না, তখনই বিরোধী দল সংসদের বাইরে রাজপথের রাজনীতিতে যায়।বিশ্লেষকেরা বলছেন, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের এই কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য হলো জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকর করা। তবে এর পাশাপাশি নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করা এবং রাজনীতির মাঠে সক্রিয়ভাবে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার লক্ষ্যও রয়েছে বিরোধীদের।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত