প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলের প্রথম দিনেই ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৮ বছরের শিশু ওয়াফা
ডেক্স রিপোর্ট। ||
গাজায় নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর প্রথম দিনেই মর্মান্তিক এক হামলার শিকার হয়েছে ৮ বছর বয়সি ফিলিস্তিনি শিশু ওয়াফা ইউসুফ নাবিল আকিলা। পরিবারের সঙ্গে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ওয়াফা ও তার বাবা নিহত হয়েছেন। নীল রঙের স্কুল ইউনিফর্ম পরে আনন্দ নিয়ে স্কুলে যাওয়া শিশুটির এমন মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক।রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) আল-শিফা হাসপাতাল সূত্র জানায়, হামিদ মোড়ের কাছে ইসরায়েলি ড্রোন থেকে হামলা চালানো হয়। এতে ওয়াফা ও তার বাবা প্রাণ হারান। হামলায় আরও ছয়জন আহত হয়েছেন।হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে ওয়াফাকে নীল স্কুল ইউনিফর্ম পরা হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায়। নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনে স্কুলে যাওয়ার আনন্দে সে ক্যামেরার সামনে থাম্বস-আপ দেখিয়েছিল। তবে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেই আনন্দের চিত্র বদলে যায় ভয়াবহতায়। হামলার পরের ছবিতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির ধ্বংসাবশেষের মধ্যে ওয়াফার স্কুলের বই-খাতা ও অন্যান্য সামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়।ঘটনার পর প্রকাশিত ভিডিওতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ পেতে দেখা যায়। একজন স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, বিশ্ববাসী যেন দেখে—শিশুটির এখন এটাই অবশিষ্ট। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যখন যুদ্ধবিরতির কথা বলা হচ্ছে, তখন এ ধরনের হামলা কেন হচ্ছে। আরেকজন বলেন, গাজায় কোনো যুদ্ধবিরতি নেই; প্রতিদিন মানুষ নিহত হচ্ছে, শিশুদেরও প্রাণ যাচ্ছে।ওয়াফার মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। যুদ্ধবিরতির কথা বলা হলেও গাজায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি কেন বন্ধ হচ্ছে না—এমন প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।হামলার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রথমে জানায়, তারা হামাসের একজন সদস্যকে লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরে সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করে, নিহত ইউসুফ আকিলা হামাসের অভিজাত নুখবা বাহিনীর একজন কোম্পানি কমান্ডার ছিলেন। তাদের দাবি, তিনি ইসরায়েলি সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন এবং হামাসের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের কাজ করছিলেন। তবে এসব দাবির সমর্থনে কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ দেওয়া হয়নি।এদিকে গাজায় চলতি মাসের শেষদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্কুল চালুর কথা রয়েছে। তবে এর আগেই কিছু স্কুল ও বিকল্প শিক্ষা কেন্দ্র কার্যক্রম শুরু করেছে। দীর্ঘদিনের সংঘাতে গাজার বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে হাজারো শিক্ষার্থী এখন তাঁবু, অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ এবং আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত বিভিন্ন ভবনে পড়াশোনা করছে।একই দিনে গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় আরও কয়েকজন ফিলিস্তিনি শিশু ও তরুণ নিহত হয়েছেন। মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকার পূর্বদিকে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর আশ্রয়স্থল সাকিনা স্কুলে গোলাবর্ষণের ঘটনায় ৭ বছর বয়সি সাদি ঘালিয়া নিহত হয়।এ ছাড়া গাজা সিটির রিমাল এলাকায় ড্রোন হামলায় ২৮ বছর বয়সি মোহাম্মদ আতেফ আরাফাত সুক্কার নিহত হন। ফিলিস্তিন স্টেডিয়াম ও আল-মামুনিয়া স্কুলের কাছে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত ১৯ বছর বয়সি হাসান আলি সাকাল্লাহ পরে মারা যান বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।ওয়াফার এই মৃত্যু আবারও গাজায় শিশুদের নিরাপত্তা এবং চলমান সংঘাতের মধ্যে তাদের শিক্ষাজীবনের অনিশ্চয়তার বিষয়টি সামনে এনেছে।
সূত্র: দ্য মিডল ইস্ট আই
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত