প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের কথা জানালেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু
স্টাফ রিপোর্টার। ||
মাদক নির্মূল, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।বুধবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সংসদ সদস্য এবং প্রশাসনের সঙ্গে আয়োজিত বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। মানুষ যার কাছ থেকে কিছু পাওয়ার আশা করে, তার কাছেই প্রত্যাশা রাখে। সামনে আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হচ্ছে কিশোর গ্যাং। তারা বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে দিন দিন নানা জায়গায় বিচরণ করছে। মাদক এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সময়ের সঙ্গে এর বিস্তার আরও বাড়তে থাকবে। এখনই এর লাগাম টেনে ধরা না গেলে একসময় সমাজব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। সুস্থ পরিবেশ নষ্ট হয়ে সমাজ অসুস্থ মানুষের বসবাসের জায়গায় পরিণত হবে। তাই আমাদের প্রথম লক্ষ্য হলো কীভাবে মাদক নির্মূল করা যায়।’মাদক নির্মূলে প্রতিটি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে দল গঠন করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি মাদক কারবারিদের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘তালিকা তৈরি করেন। ওই তালিকা অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’যানজট কমাতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘এটিকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে হবে। একবার অনিয়ন্ত্রিত হয়ে গেলে পরে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। তাই এখনই কীভাবে এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ ও লাইসেন্সের আওতায় আনা যায়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।’আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।তিনি বলেন, ‘সবাই একসঙ্গে কাজ করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করা সম্ভব। কোনো উন্নয়নমূলক কাজ ধীরগতিতে চললে আমাকে জানাবেন। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।’প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতি মাসে জেলাভিত্তিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য নেবেন। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।সভায় বক্তারা অবাধে মাদক বিক্রি, কিশোর গ্যাং, ডাকাতি, চুরি ও ছিনতাই প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা, অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ এবং যানজট নিরসনের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে পুলিশের আরও কার্যকর ও জোরালো ভূমিকার আহ্বান জানান সংসদ সদস্যরা।ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক, ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু, ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব তমিজ উদ্দিন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী ও ফেরদৌসী আহমেদ, ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস্ ও ট্রাফিক দক্ষিণ) মো. তরিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আব্দুর রাফিউল আলমসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা।
সূত্র: আমার দেশ
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত