প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সাদ কান্ধলভীকে তওবার আহ্বান হেফাজতের আমিরের
স্টাফ রিপোর্টার। ||
পবিত্র কোরআনের ভুল ব্যাখ্যা এবং নবী-সাহাবিদের বিষয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ তুলে ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে তওবা করার আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। তাঁর অভিযোগ, ইসলাম, নবুয়ত ও শরিয়তের বিভিন্ন মাসআলা নিয়ে সাদ কান্ধলভী বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) আয়োজিত এক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।সাদ কান্ধলভী তাবলিগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্ধলভীর প্রপৌত্র। দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজকেন্দ্রিক তাবলিগের একটি অংশ তাঁকে নিজেদের আমির হিসেবে মানে।হেফাজতের আমির বলেন, দারুল উলুম দেওবন্দের মুরব্বিসহ আলেমরা দায়িত্ব নিয়ে সাদ কান্ধলভীকে সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি আলেমদের পরামর্শ গ্রহণ করে নিজের বক্তব্য সংশোধনে সম্মত হননি।২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর এবং ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবিতে ‘ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশ’-এর ব্যানারে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের অভিযোগ, সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা পরিকল্পিতভাবে ওই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটিয়েছেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলামের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। তাঁর লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী।সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমির বলেন, সাদ কান্ধলভী খালিস তওবা করে শুরায়ি নেজাম মেনে দেওবন্দের মুরব্বিদের কাছে রুজু না করা পর্যন্ত তাঁকে বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা আলেমদের তত্ত্বাবধানে শুরায়ি নেজামের মাধ্যমে পরিচালিত হতে হবে। একইভাবে কাকরাইল মারকাজের কার্যক্রমও ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার দাবি জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, সাদ কান্ধলভীর অনুসারীদের টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যাবে না। মাওলানা সাদকে বাংলাদেশে এনে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবিও জানান তিনি।হেফাজতের আমিরের অভিযোগ, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠে তাবলিগের সাথি এবং মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী আরও বলেন, তাবলিগের শুরায়ি নেজামের সাথি ও মাদ্রাসাছাত্রদের ওপর হামলায় জড়িতদের অনেকে ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর’। তাঁর অভিযোগ, এসব ব্যক্তি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে সংঘাত ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এবং বিদেশি গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ষড়যন্ত্র করছেন।সম্মেলনে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন রাজধানীর উত্তরার জামিয়াতুন নূর আল কাসিমিয়ার অধ্যক্ষ নাজমুল হাসান কাসেমী। ঘোষণাপত্রে সরকারের কাছে সাতটি দাবি তুলে ধরা হয়।দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা; হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনা এবং সাদপন্থীদের ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে ঘোষণা করা; টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে সাদপন্থীদের বিশ্ব ইজতেমা কিংবা তাবলিগের কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা।এ ছাড়া সাদপন্থীদের কোনো ‘অযৌক্তিক দাবি’ গ্রহণ না করা, টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে তাঁদের প্রবেশ স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা, আলেমদের বিষয়ে বিদেশিদের কাছে নেতিবাচক বার্তা পাঠানোর অভিযোগে ওয়াসিফুল ইসলাম, রেজা আরিফ, ওয়াসিফুল ইসলামের ছেলে ওসামা ও সায়েমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি আলেমদের মাধ্যমে দাওয়াত ও তাবলিগের সব সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের পথ বের করার দাবিও রয়েছে।সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা আবদুল হামিদ (মধুপুর পীর), হেফাজতে ইসলামের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবিব, নায়েবে আমির মাওলানা সালাহউদ্দিন নানুপুরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুযে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী, মাদানীনগর মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মুফতি বশির উল্লাহ, দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসার মুফতি জসিম উদ্দিন এবং ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসেন রাজিসহ অনেকে।
সূত্র: প্রথম আলো
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত