প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইরান ইস্যুতে উপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক ডাকলেন ট্রাম্প
ডেক্স রিপোর্ট। ||
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পরিকল্পনাও আলোচনায় আসতে পারে।বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত তিনটি সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস বুধবার এ তথ্য প্রকাশ করেছে।অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী মঙ্গলবার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে পারে। সেখানে যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে এ বিষয়ে একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা প্রণয়নে কাজ করছে। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা হতে পারে।বৈঠকে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসির সদস্য সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের নেতারা কিংবা পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নিতে পারেন। এ ছাড়া অন্যান্য আরব ও মুসলিম দেশের নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানোর সম্ভাবনা রয়েছে।অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বৈঠকের জন্য প্রাথমিকভাবে আমন্ত্রণ পাঠিয়েছে। একই সময়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে এখনো তাঁদের বৈঠকের কোনো সময় নির্ধারিত হয়নি।এদিকে বুধবার ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান সরাসরি ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী।তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধও শেষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আশা করি, আমরা যুদ্ধের শেষ পর্যায়ের দিকে রয়েছি।’নর্থ ক্যারোলিনায় অবতরণের পর সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘তারা একটি চুক্তি করতে চায়। এখন দেখা যাক, সেটি কীভাবে এগোয়।’ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, নাকি কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে—এ প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ইরান সরাসরি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চলার মধ্যেই ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। এর আগে গত জুনে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। বৃহত্তর শান্তি চুক্তির পথ তৈরির অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ওই সমঝোতায় একটি চুক্তির পরিকল্পনা করা হয়েছিল।এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে বড় ধরনের হামলা শুরু করে। হামলায় সরকারি ভবন, সামরিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু করা হয়।জবাবে ইরান ইসরাইলের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতেও ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। পরবর্তী সময়ে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে।সূত্র: আমার দেশ
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত